কক্সবাজার-মহেশখালী নৌ-রুটে চলমান সি-ট্রাক সংকটকে 'দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর' মতো একটি সাময়িক ব্যবস্থা বলে উল্লেখ করেছেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ। তিনি বলেছেন, মহেশখালীবাসীর একমাত্র ও প্রধান প্রাণের দাবি হলো কক্সবাজার পৌরসভার সাথে সংযোগকারী একটি স্থায়ী ‘মহেশখালী সেতু’ নির্মাণ, যা এই সরকারের আমলেই বাস্তবায়ন করতে হবে।
গতকাল মহেশখালীতে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে গতকাল ঢাকা থেকে ফিরেই তিনি সরাসরি মহেশখালী জেটিঘাটে যান এবং সি-ট্রাক বন্ধ থাকার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
দীর্ঘদিন ধরে মহেশখালীবাসীর যাতায়াতে সি-ট্রাকের ওপর নির্ভরতার কথা উল্লেখ করে এমপি আলমগীর ফরিদ সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা দ্বীপাঞ্চলের মানুষ, আমাদের সমুদ্রপথেই যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে যে সি-ট্রাকটি চলছে, সেটি অনেক পুরোনো হয়ে গেছে। সম্প্রতি এর মোটর পুড়ে যাওয়ায় যাত্রী পারাপারে চরম বিঘ্ন ঘটে। আমি নিজে বিআইডব্লিউটিসি-এর চেয়ারম্যান এবং পরিচালকের সাথে কথা বলে নতুন মোটর এনে এটি সচল করতে বলেছি।"
তবে এই ব্যবস্থাকে সাময়িক উল্লেখ করে তিনি বলেন, "দুধের স্বাদ আমরা ঘোলে মেটাচ্ছি। মহেশখালীর অগভীর নাব্যতা থাকায় বড় আকারের নৌযান বা সি-ট্রাক আমাদের জেটিতে ভিড়তে পারে না। কুতুবদিয়ায় যে নৌযানটি চলে, সেটি আমাদের মহেশখালীর জন্যই আনা হয়েছিল, কিন্তু নাব্যতার কারণে তা ঢুকতে পারেনি।"
এর স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান হিসেবে তিনি বলেন, "৫০০ যাত্রী ধারণক্ষমতার একটি বিশেষায়িত 'শ্যালো ড্রাফট' বা কম ড্রাফটের জাহাজ তৈরির জন্য আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে ডিও লেটার (আধাসরকারি পত্র) দিয়েছি। জাহাজটি নতুন করে বানাতে হবে, তাই এটি পেতে অন্তত ৬-৭ মাস সময় লাগতে পারে। তবে এটি চালু হলে মহেশখালীবাসীর যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘব হবে।"
নতুন শ্যালো ড্রাফটের জাহাজ আসা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের জন্য একটি বিকল্প পরিকল্পনার কথাও জানান এমপি ফরিদ। তিনি বলেন, "দরকার হলে খুরুশকুলের দিকে যে জেটি হচ্ছে, সেখানে একটি পন্টুন দিয়ে আমরা ফেরির ব্যবস্থা করতে পারি, যাতে মানুষ গাড়ি নিয়েও পারাপার হতে পারে। বিষয়টি আমার মাথায় আছে।"
তবে সবকিছু ছাপিয়ে মহেশখালী সেতুর দাবিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। সংসদ সদস্য বলেন, "আমাদের একটাই দাবি, আমাদের সি-ট্রাক বা ফেরি নয়, কক্সবাজার পৌরসভার সাথে মহেশখালীর সংযোগকারী একটি স্থায়ী সেতু আমাদের প্রাণের দাবি। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এটি আমরা ১ নম্বরে রেখেছিলাম। আপনারা দোয়া করবেন, আমি যেন আমার এই কাজে সফল হতে পারি এবং এই সরকারের আমলেই যেন সেতুটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়।"
আজকের (৫ আগস্ট) কর্মসূচি: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ (৫ আগস্ট) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ সকাল ৯টায় তিনি উপজেলা প্রশাসনের সাথে কালারমারছড়ায় শহীদ তানভীর সিদ্দিকীর কবর জিয়ারত ও পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এরপর সকাল ১১টায় তিনি উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় যোগদান করেন।
সর্বশেষ বিকেল ৩টায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল গণমিছিলে নেতৃত্ব দেবেন তিনি। মিছিলটি মহেশখালীর বানিয়ার দোকান থেকে শুরু হয়ে গোরকঘাটা বাজার প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদের সামনে গিয়ে শেষ হবে।