ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কক্সবাজারের মহেশখালীতে প্রবল বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে হাজারো জনতার অংশগ্রহণে এক বিশাল গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করার পাশাপাশি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কড়া বার্তা দিয়েছেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৩টায় সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদের নেতৃত্বে মহেশখালী উপজেলার বানিয়ার দোকান এলাকা থেকে এই বিশাল গণমিছিল শুরু হয়।
মহেশখালী উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ছাড়াও হাজার হাজার নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই মিছিলে অংশ নেন। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে মিছিলটি উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন পুরাতন আদালত ভবন সড়ক ও থানা রোড প্রদক্ষিণ শেষে ইলা কমিউনিটি সেন্টার মাঠে গিয়ে এক বিশাল সমাবেশে রূপ নেয়। এ সময় নেতাকর্মীরা শহীদ জিয়াউর রহমান, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং এমপি আলমগীর ফরিদের নামে গগনবিদারী স্লোগান দিয়ে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন।
# ‘বিএনপিকে হুংকার দেওয়া বোকামি’:
মিছিলোত্তর এই বিশাল সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহেশখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল কাদের বাবুল।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হলো এদেশের ছাত্র-জনতার ওপর দীর্ঘ ১৭ বছরের জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। দেশের জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত বর্তমান বিএনপি সরকার সংবিধান এবং জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে।"
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যারা জুলাইকে নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি মনে করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, আমি তাদের সহনশীল আচরণ করার আহ্বান জানাচ্ছি। বিএনপির শিকড় এদেশের সাধারণ মানুষের হৃদয়ের অনেক গভীরে প্রোথিত। তাই বিএনপিকে হুংকার দেওয়া বোকামির কাজ ছাড়া আর কিছুই নয়।"
তিনি আরও বলেন, "শহীদদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এই নতুন বাংলাদেশকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। মহেশখালী-কুতুবদিয়ার প্রতিটি স্তরে সুশাসন, ন্যায়বিচার ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই আমরা জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্বপ্নের দেশ গড়ব। দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে অহংকার পরিহার করে সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে হবে এবং তাদের ভালোবাসা অর্জন করতে হবে।"
# শহীদ তানভীরের কবর জিয়ারত ও প্রশাসনের আলোচনা সভা:
বিকেলের এই গণমিছিলের আগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিতে অংশ নেন সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ। বুধবার সকাল ৯টায় তিনি মহেশখালীর কালারমার ছড়ায় জুলাই বিপ্লবের প্রথম সারির শহীদ তানভীর সিদ্দিকীর কবর জিয়ারত এবং পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
এ সময় তাঁর সাথে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম, মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহফুজুল হক এবং মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুস সুলতানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
কবর জিয়ারত শেষে সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ হলরুমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউএনও ইমরান মাহমুদ ডালিমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে জুলাই বিপ্লবের তাৎপর্য ও শহীদদের বীরত্বগাথা নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ।