কুতুবদিয়ায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী বাড়লেও কমানো হয়েছে আর্থিক বরাদ্দ। এমনিতেই সারা বছর সরকারি একমাত্র হাসপাতালে ঔষধসহ নানা সংকট লেগেই থাকে। এরই মাঝে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে বার্ষিক বরাদ্দ কোটি টাকার উপরে কম করা হয়েছে বলে জানা গেছে। যা আগের অর্থ বছরের তুলনায় অর্ধেক।
গত এক বছরে হাসপাতালে ক্রমান্বয়ে সব বিভাগেই রোগী বেড়েছে। গত বছর জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বহিঃবিভাগে রোগী হয়েছে ৫৫ হাজার ৮০৬ জন। জরুরি বিভাগে রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন ১৬ হাজার ২২৭ জন এবং অন্ত:বিভাগে ভর্তি হয়েছিল ৫ হাজার ২৭৬ জন।
চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত অন্ত:বিভাগে রোগী ভর্তি হয়েছে ৫ হাজার ৩৭৯ জন। এছাড়া জরুরি বিভাগে ১৫ হাজার ৪১৪ জন ও আউট ডোরে ৪৬ হাজার ৮৬৫ জন রোগী সেবা নিয়েছেন।
একইভাবে রোগ নির্ণয় বিভাগেও বেড়েছে রোগী ও সরকারি আয়। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) জাহাঙ্গীর আলম জানান, আগের তুলনায় রোগ নির্ণয় বিভাগে রোগী ও ইনকাম দু' টোই বেড়েছে।চলতি বছর জানুয়ারিতে প্যাথলজি বিভাগে রোগী হয়েছিল ১৯১ জন। ক্রমান্বয়ে বেড়ে এপ্রিলে ২৫৭ জন, মে মাসে ৩৩৪ জন ও জুনে ৩১৯ রোগী পরীক্ষা নিরীক্ষা করিয়েছে। যে কারণে এ বিভাগে আগের চেয়ে আয় বেড়েছে প্রায় ৪ গুণ। রেডিওগ্রাফার বা টেকনিশিয়ান না থাকায় এক্স-রে বিভাগটি বন্ধ ৬ মাস যাবত।
উত্তর বড়ঘোপ গ্রামের বৃদ্ধ আলী আহমেদ গ্যাস্ট্রিক সমস্যায় প্রায় প্রতিদিনই ঔষধ নিতে আসেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অসুখ। আসলে একপাতা ঔষধ পাই। বেশি দিলে কষ্ট করে ঘন ঘন আসতে হত না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মারুফ জানান, সব বিভাগেই রোগী বেড়েছে। ৫০ বেডের হাসপাতাল ঠিকই। জায়গা সংকুলানে বেড ২২টি। মেঝেতে, বারান্দায় রোগীদের সীট দিতে হয়। আগের বছরের তুলনায় এবছর ভর্তি রোগী বেড়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে চলতি অর্থ বছরে বাজেট অর্ধেক কমানো হয়েছে। ফলে জরুরি বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগেও নানা সংকট বাড়বে।