প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে কাটানোর পর নেপালে ফিরেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা। হংকং হয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।
কাঠমাণ্ডু পোস্ট জানায়, তিনি সরাসরি মহারাজগঞ্জে তার ভাড়া করা বাসায় উঠবেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত সচিব ভানু দেউবা। নেপাল ছাড়ার আগে যে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন সেখানেই থাকবেন তিনি।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার কথা জানিয়ে সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন দেউবা। এরপর প্রায় পাঁচ মাস তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। তবে তার বিদেশে অবস্থান এবং চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
শের বাহাদুর দেউবা কাঠমান্ডু থেকে সরাসরি সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন। আর তার স্ত্রী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবা নয়াদিল্লি হয়ে সিঙ্গাপুরে যান। পরে দেউবা, রানা ও তাদের ছেলে জয়বীর কখন সিঙ্গাপুর থেকে হংকংয়ে যাত্রা করেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার দেউবা দেশে ফিরলেও তার স্ত্রী আরজু রানা ও ছেলে জয়বীর কোথায় তা এখনও জানা যায়নি।
দেউবা পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন। তবে কোথায় চিকিৎসা নিয়েছেন বা কী ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য চিকিৎসা নিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।
ওদিকে প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে থাকার সময় দেউবা, তার স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসা, যাতায়াত এবং অন্যান্য ব্যয় কে বা কারা বহন করেছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নেপালি কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা শের বাহাদুর দেউবা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ছাত্র ও তরুণদের 'জেন-জি’ আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর স্বল্পমেয়াদি নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরবর্তীতে নেপালের দুর্নীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে এক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
আন্দোলন চলাকালে বিক্ষোভকারীরা নেপালের পার্লামেন্ট ভবনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও রাজনৈতিক স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করে। বুধানিলকান্থায় অবস্থিত শের বাহাদুর দেউবার ব্যক্তিগত বাসভবনেও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
আন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে এবং পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়। পরে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে।