চকরিয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। মণ্ডপে মণ্ডপে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের মাটির কাজ এবং রঙ-তুলির নিখুঁত আঁচড়। উৎসবের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, মৃৎশিল্পীদের কাজের চাপ ততই বাড়ছে। দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে চকরিয়া পৌরসভা ও উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মাধ্যমে শেষ হবে এই উৎসব।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শাস্ত্রমতে, এবার দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোটকে এবং গমন হবে নৌকায়। এ নিয়ে ভক্তদের মধ্যেও রয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা।
চকরিয়া পৌরশহরে প্রতিমা তৈরির কারখানা ঘুরে দেখা যায়, পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করছেন মৃৎশিল্পীরা।
প্রতিমা তৈরির প্রথম ধাপে বাঁশ ও খড় দিয়ে কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর কয়েক দফায় মাটির প্রলেপ দিয়ে প্রতিমার আকৃতি দেওয়া হয়। মাটি শুকানোর পর চলে ফিনিশিং ও রঙের কাজ। দুর্গা প্রতিমার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, অসুর, সিংহ, মহিষ, পেঁচা, হাঁস ও সর্পসহ বিভিন্ন প্রতিমা।
প্রতিমা কারিগর সুমন পাল বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় প্রতিমা তৈরির খরচও বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় মজুরি বাড়েনি। ফলে এবার পরিশ্রম অনুযায়ী লাভ হবে না।
আরেক প্রতিমা কারিগর সুশান্ত পাল বলেন, দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরি আমাদের কাছে শুধু পেশা নয়, শিল্প ও ঐতিহ্যের অংশ। মাটি দিয়ে ধীরে ধীরে প্রতিমার রূপ দেওয়া পরিশ্রমের কাজ। তবে প্রতিমা তৈরির পর মানুষের আনন্দ দেখে আমাদের পরিশ্রম সার্থক মনে হয়।
স্থানীয় পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর চকরিয়া পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন মোট ৯৯টি মণ্ডপে সাড়ম্বরে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে।
চকরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেবনাথ বলেন, অতীতের ন্যায় ঐতিহ্যবাহী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে চকরিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে।
চকরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি তপন দাশ বলেন, এ বছর চকরিয়ায় মোট ৯৯টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন চলছে। আমরা প্রতিটি মণ্ডপ কমিটির সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দুর্গোৎসবকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হতে পারে, সে জন্য আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করে কাজ করছি।
চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল আজিজ বলেন, দুর্গাপূজা এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা পরবর্তী সময় এই তিন পর্যায়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পূজা কেন্দ্রিক পুলিশের নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো মহল বা গোষ্ঠী যাতে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে,সেজন্য সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, এবারে ৯৯টি মণ্ডপে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি আমাদের বিশেষ মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। চকরিয়ার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে অত্যন্ত সুন্দর ও নিরাপদভাবে এবারের উৎসব সম্পন্ন করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, সম্প্রীতির বন্ধনে এবারও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। প্রতিমা তৈরির মূল কাজ শেষ হলেই মণ্ডপগুলোতে মূল আলোকসজ্জা ও আকর্ষণীয় তোরণ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।