ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্তি ঠেকাতে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) ডাটাবেজের সহায়তা নিতে ফের উদ্যোগী হচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবার আর সার্ভার নয়, অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) নেওয়ার কথা ভাবছে সংস্থাটি।
সোমবার (৮ জুন) ইসি কর্মকর্তারা বিষয়টি জানিয়েছেন।
জানাগেছে, ইউএনএইচসিআরের ডাটাবেজে এপিআই পেলে সহজেই রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করা যাবে।
কারণ তাদের ডাটাবেজে মিয়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গাদের তথ্য রয়েছে। এক্ষেত্রে কেউ ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করলে, সন্দেহ হলেই এপিআই এর মাধ্যমে যাচাই করা যাবে।
গত বছর জাতিসংঘের কাছে পুরো ডাটাবেজ নেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলো কমিশন। তবে তা সরকার, না ইসির কাছে থাকবে, সেই টানাপড়েনের মধ্যে পড়ে উদ্যোগটি থমকে যায়।
ফলে নতুন করে এখন এপিআই নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, ইউএনএইচসিআরকে আমরা চিঠি দিচ্ছি। গত বছর পাইনি। এ কারণে আবারও চিঠি দিচ্ছি।
জানাগেছে, ইউএনএইচসিআরের কাছে বাংলাদেশে অবস্থানরত ১১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৬৪ জন রোহিঙ্গার তথ্য রয়েছে। এরা দেশের সমতলেও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই বিয়ে করে, কেউ কেউ দালালদের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে এনআইডি হাতিয়ে নিচ্ছে। পরবর্তীতে কেউ কেউ পাসপোর্ট করে বিদেশেও গিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তাই চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৩২ উপজেলা ইতিমধ্যে বিশেষ উপজেলা ঘোষণা করেছে, বিশেষ পদ্ধতি ও কমিটির যাচাইয়ের মাধ্যমে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করছে নির্বাচন কমিশন।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের কেউ ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করলে ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ফেলা হয় আবেদন। দুটি ক্যাটাগরির কোনটিতেই চিহ্নিত না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আবেদন ‘সি’ ক্যাটাগরি বা বিশেষ কমিটির কাছে যায় আবেদনগুলো।