টাইব্রেকারে একের পর এক শট মিস। কেউ বারে মারছে তো কারো শট লক্ষ্যেই থাকছে না। পেনাল্টি মিসের মহড়ায় একটা শট কম মিস করে শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি মরক্কোই হাসলো। অন্যদিকে আরও একবার টাইব্রেকারে কপাল পুড়ল নেদারল্যান্ডসের।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) এস্তাদিও মন্তেরেতে রাউন্ড অব ৩২–এর ম্যাচে টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে মরক্কো। এই জয়ে শেষ ১৬–তে জায়গা করে নিলো গত আসরের সেমিফাইনালিস্টরা।
এদিকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো নেদারল্যান্ডসকে। গত আসরের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও টাইব্রেকারে হেরে বাদ পড়তে হয়েছিল তাদের। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে টাইব্রেকারে কপাল পুড়েছিল তাদের।
২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হারের পর থেকে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে কোনো ম্যাচ না হারলেও প্রতিবারও টাইব্রেকারে কপাল পুড়েছে ডাচদের।
এদিন টাইব্রেকারে প্রথম শট নেন নেদারল্যান্ডসের তোন কোপমেইনার্স। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো সঠিক দিকে ঝাঁপিয়েও অল্পের জন্য বলের নাগাল পাননি। কিন্তু মরক্কোর প্রথম শট নিতে এসে বাইরে মারেন নিল এল আয়নাওয়ি।
ডাচদের দ্বিতীয় শট নেয়া জাস্টিন ক্লুইভার্ট মিস করেন । মরক্কোর সোফিয়ান রাহিমির শট ডাচ গোলরক্ষক ভেরব্রুখেন ঠেকিয়ে দিলেও তার পায়ে লেগেই জালে জড়ায়। ফলে সমতা আসে। দুই দলের পক্ষে যথাক্রমে ভেঘর্স্ট এবং তালিবি বল ঠিকঠাক জালে পাঠান। কিন্তু চতুর্থ শট নিতে এসে কুইন্টিন টিম্বার ও আশরাফ হাকিমি দুজনই মিস করেন।
নেদারল্যান্ডসের পক্ষে সামারাভিল পঞ্চম শট মিস করলেও ইসমাইল সাইবারি আর ভুল করেননি।
এর আগে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ গোলে অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়। ৭০ শতাংশ বল পজেশন ধরে রেখে মরক্কোই আধিপত্য দেখিয়েছে। ১২টি শট নিয়ে ৬টি লক্ষ্যে রাখতে সমর্থ হয় তারা। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডস ৭টি শটের ৩টি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে।
ম্যাচে অবশ্য ডাচরাই প্রথম গোলের দেখা পায়। ৭২ মিনিটে কোডি গাকপো গোল করে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন। সামারাভিলের দারুণ পাস ধরে গতিময় দৌড়ে ডি-বক্সে ঢুকে গোল করেন এই লিভারপুল তারকা। গোল করেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এই ম্যাচের ঠিক আগে মাতৃগর্ভে থাকা সন্তানকে হারিয়েছেন এই উইঙ্গার। অনাগত সন্তানের কথা স্মরণ করে গোল উদযাপন করেন তিনি। এ সময় পুরো দল তার সঙ্গে যোগ দেয়।
মরক্কো সমতায় ফেরে নির্ধারিত সময়ের একদম শেষ মিনিটে। হেড থেকে বল জালে পাঠান ইসা দিওপ।
শেষ ষোলোয় মরক্কো প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে এবারের আসরের সহআয়োজক কানাডাকে। আগামী শনিবার (৪ জুলাই) হিউস্টন স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।