পলিথিনে মোড়ানো একটি ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত পঙ্গু দিনমজুর আলী হোসেন। তিনি রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের মোক্তার ঘোনার বাসিন্দা মোক্তার আহমদের ছেলে। দুই সন্তান আর এক স্ত্রীকে নিয়ে সাজানো সংসারটি আজ চরম অন্ধকারে নিমজ্জিত। এমনকি এই দুর্দিনে তার পাশে নেই স্ত্রীও; সুস্থ হয়ে উঠলে তবেই সংসারে ফিরবেন-এমন শর্তে তিনি সন্তানদের নিয়ে চলে গেছেন বাবার বাড়িতে। সব মিলিয়ে চরম অনিশ্চয়তা আর নিয়তির ওপর ভরসা করেই দিন কাটছে আলী হোসেনের।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিবেশীরা জানান, ২০২৩ সালে শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে একটি গাছের শাখা কাটার সময় দুর্ঘটনায় পতিত হন আলী হোসেন। সেদিনের সেই দুর্ঘটনায় তিনি মেরুদণ্ডে মারাত্মক আঘাত পান। তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক ভর্তি করালেও অর্থাভাবে তার উন্নত চিকিৎসা সম্ভব হয়নি। পরে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। সেদিন থেকে স্থানীয় পাড়া-প্রতিবেশী ও জনপ্রতিনিধিরা সাধ্যমতো সহযোগিতা করে আসলেও মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু মেরামত করার কোনো উপায় ছিল না। মানুষের দেওয়া সেই সহায়তার কিছু অংশ দিয়ে ঘরটি পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে কোনোমতো দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘরের চারপাশের বেড়ার বদলে ঝুলছে ছেঁড়া পলিথিন ও পচা ত্রিপল। সামান্য বাতাসেও ঘরটি কেঁপে ওঠে। বিছানায় শুয়ে থাকা আলী হোসেনের চোখে-মুখে এখন কেবল মৃত্যুভয় আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। টাকার অভাবে ওষুধ কেনা তো দূরের কথা, দুমুঠো ভাত জোগাড় করাই এখন এই পরিবারের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্ত্রী চলে যাওয়ার পর থেকে তার এক বোন প্রতিদিন এসে তাকে নিজ হাতে খাইয়ে যাচ্ছেন।
দিনমজুর আলী হোসেন বলেন, চিকিৎসাব্যয় মেটাতে গিয়ে ভিটেমাটি সব হারিয়ে আজ তিনি পলিথিন মোড়ানো ঝুপড়ি ঘরে পঙ্গুত্ব নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। টাকার অভাবে চিকিৎসা ও ওষুধ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, সরকারি বা বেসরকারিভাবে দ্রুত এই অসহায় পরিবারটির পাশে কেউ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দিলে অনাহার ও চরম মানবেতর পরিস্থিতিতে বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়বেন আলী হোসেন। বিত্তবান ও হৃদয়বান ব্যক্তিদের প্রতি তার আকুল আবেদন, তারা যেন তাকে বাঁচার সুযোগ দেন এবং আগের মতো সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকুতি জানান।
এ বিষয়ে গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুনিরুল আলম বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পূর্ণ সত্য। তার জন্য কিছু ক্ষুদ্র মানবিক সহায়তা করা হলেও এখন তার একটি বড় সহায়তা প্রয়োজন। কোনো দানবীর বা মানবতাবাদী ব্যক্তি ও সংস্থাকে তার পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। এছাড়া এই অসহায় ও পঙ্গু ব্যক্তির জন্য যা যা করা প্রয়োজন, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও আমি তা করে যাবো।’