বর্ষা শেষ হওয়ার পথে, অথচ কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২ হাজার ৫০৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। যেখানে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেঙ্গুর সর্বশেষ পরিস্থিতির নিয়ে তৈরি করা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটির সর্বশেষ হিসাবে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে নতুন করে ৪১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩১ জন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৮৫৬ জন। এ সময় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩ হাজার ৬৬০ জন। যেখানে রোহিঙ্গার সংখ্যা ২ হাজার ৫০৭ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩৫ জন। ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের। আর ৬ জনই রোহিঙ্গা। যার মধ্যে ক্যাম্পের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ জন এবং কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ডেঙ্গু এখন আর কোনো একটি এলাকার সমস্যা নয়। জেলার একাধিক উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে রোগটি। বিশেষ করে টেকনাফ, মহেশখালী ও চকরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।
স্বাস্থ্য বিভাগের ১৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৪০ জন এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এলাকায় একজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন টেকনাফে ৩৩ জন। এ ছাড়া মহেশখালীতে আটজন, চকরিয়ায় চারজন, রামুতে চারজন, উখিয়ায় একজন এবং ঈদগাঁওয়ে একজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সদর এলাকায় শনাক্ত হয়েছেন চারজন।
হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৩৫ জনের মধ্যে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালেই রয়েছেন ২২ জন। এ ছাড়া মহেশখালীতে চারজন, টেকনাফে তিনজন, চকরিয়ায় তিনজন, উখিয়ায় দুইজন এবং পেকুয়ায় একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চলতি বছরের হিসাবেও টেকনাফে ডেঙ্গুর উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলাটিতে ৩৩২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ২৯৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মহেশখালীতে শনাক্ত হয়েছেন ২৬৮ জন। তাদের মধ্যে ২৬৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চকরিয়ায় শনাক্ত হয়েছেন ২৬১ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫৯ জন। উখিয়ায় ১৯৫ জন শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৯৩ জন। সদরে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯৫ জন এবং ভর্তি ৯৪ জন। ঈদগাঁওয়ে ৫৮ জন শনাক্ত হয়েছেন, ভর্তি হয়েছেন ৫৫ জন। রামুতে ৫৩ জন, পেকুয়ায় ১৪ জন এবং কুতুবদিয়ায় ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। পৌরসভা এলাকায় শনাক্ত হয়েছেন ১৭ জন। অন্যান্য এলাকা থেকে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৪৩ জন।
কক্সবাজারের ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ২ হাজার ৫০৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৫০৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসনের কার্যালয়ের প্রধান স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী: ডা. আবু তোহা মো. রিজুয়ানুল হক ভূঁইঞা জানান, চলতি সপ্তাহে নতুন করে ১৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ক্যাম্পের জনসংখ্যার তুলনায় ডেঙ্গু আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি পাঁচটি ক্যাম্প হলো, নয়াপাড়া আরসি ক্যাম্পে ১ দশমিক ৬১ শতাংশ, ক্যাম্প ১৪-তে শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ, ক্যাম্প ২৬-এ শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ, ক্যাম্প ১৯-এ শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ এবং ক্যাম্প ৪ এক্সটেনশনে শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ।