২ জন মহিলাকে হত্যার মামলায় একজন আসামীকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ে ২ জন আসামীকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এ রায় ঘোষণা করেন। কক্সবাজার জেলা জজ আদালতের জেলা নাজির বেদারুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত আসামী হলেন, কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের মৃত জাফর আলমের পুত্র আবুল কালাম (৩৬)। রায় ঘোষণার সময় দন্ডিত আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্র পক্ষে অ্যাডভোকেট মোজাফফর আহমদ হেলালী ও অ্যাডভোকেট কুতুবউদ্দিন এবং আসামী পক্ষে অ্যাডভোকেট হরিসাধন পাল মামলাটি পরিচালনা করেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ :
২০২১ সালের ১৯ জানুয়ারী সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের চরপাড়ার আজিজুল হকের বাড়িতে একদল সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আজিজুল হকের স্ত্রী রাশেদা বেগম (৪০) ও তার কন্যা সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস (১৩) কে দা দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। এ ঘটনায় আজিজুল হক বাদী হয়ে স্ত্রী ও কন্যা হত্যার অভিযোগ এনে আবুল কালাম, আবু তাহের, হামিদা বেগম ও মনোয়ারা বেগমকে আসামী করে ঈদগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার ঈদগাঁও থানা মামলা নম্বর ০১, তারিখ : ২২/০১/২০২১ ইংরেজি, জিআর মামলা নম্বর : ০১/২০২১ ইংরেজি (ঈদগাঁও) ও দায়রা মামলা নম্বর : ২১৬১/২০২৩ ইংরেজি।
এ মামলায় আসামী আবুল কালামকে পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর হত্যার দায় স্বীকার করে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেন। মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) আসামী আবুল কালাম, হামিদা বেগম ও মনোয়ারা বেগমকে প্রাথমিকভাবে দোষী সাব্যস্থ করে আদালতে চার্জশীট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন এবং মামলার অপর আসামী আবু তাহেরকে মামলার দায় হতে অব্যাহতি দিতে আদালতে আবেদন জানান। ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটির চার্জ (অভিযোগ) গঠন করা হয়। মামলাটি ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতে প্রেরণ করা হলে সেখানে হত্যা মামলাটির বিচারকার্য শুরু করা হয়। মামলায় ২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ, আসামীপক্ষে তাদের জেরা, আসামীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ, আসামীদের পক্ষে আসামী আবুল কালাম সহ ২ সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ, রাষ্ট্র পক্ষে তাদের জেরা, আলামত প্রদর্শন, সুরতহাল প্রতিবেদন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পর্যালোচনা সহ বিচারের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলাটি রায়ের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য্য করা হয়। ধার্যদিনে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী ১৮৬০ সালের ফৌজদারী দন্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামী আবুল কালামকে দোষী সাব্যস্থ করে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন। রায়ে মামলার চার্জশীট ভূক্ত অপর ২ জন আসামী হামিদা বেগম ও মনোয়ারা বেগমের এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়।
চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের মামলার রায়ের পর্যবেক্ষনে বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী বলেন, "অভিযুক্ত আবুল কালাম গং নিহত ভিকটিমদ্বয়ের পরস্পর আত্মীয়। এছাড়া, ভিকটিম মা ও মেয়েকে তাদের নিজ বাড়ির উঠানে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।" বিজ্ঞ বিচারক আরো বলেন, "এ ধরনের প্রকাশ্য ও নৃশংস হত্যাকান্ডে দ্বারা কেবল ২টি প্রাণহানির ঘটনা সংঘটিত হয়নি, বরং তা আমাদের প্রচলিত সামাজিক বন্ধনকে কুঠারাঘাত করে। একইসাথে এ ধরনের হত্যাকান্ড আমাদের সমাজে ভীতি, নিরাপত্তাহীনতা ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের এক উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে। যা জনমনে গভীর আতংক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার উপর প্রভাব ফেলে"।