মিয়ানমারের অভ্যন্তরে নতুন করে জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র সংঘাত শুরু হওয়ায় বাংলাদেশ সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক থাকলেও কাটেনি সীমান্তবাসীর আতঙ্ক। নিরাপত্তাজনিত কারণে নাফ নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় জীবিকার একমাত্র পথ হারিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন টেকনাফের কয়েক হাজার জেলে। এদিকে, নতুন করে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে স্থল ও জলসীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি ও কোস্ট গার্ড।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে টেকনাফের নাইট্যংপাড়া সীমান্তে গিয়ে দেখা যায়, নাফ নদীর তীরে সারি সারি মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকা নোঙর করে রাখা হয়েছে। গভীর নদীতে যাওয়ার অনুমতি না পেয়ে অনেকে তীরের কাছাকাছি মাছ ধরার চেষ্টা করছেন, তবে তাতে আশানুরূপ মাছ মিলছে না।
নাইট্যংপাড়ার জেলে আব্দুল মালেক বলেন, 'টেকনাফ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারে আবারও গোলাগুলি শুরু হওয়ায় নিরাপত্তার কারণে আমাদের নদীতে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল শত শত জেলে পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। দুই দিন আগেও ওপারে ভারী গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।'
সৈয়দ হোসেন নামের আরেক জেলে জানান, মিয়ানমারে চলমান গোলাগুলি ও বিমান হামলার কারণে তারা চরম অনিশ্চয়তা ও ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তারা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে নিরাপদে মাছ ধরার অনুমতি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।
সীমান্ত সূত্র জানায়, গত বুধবার টেকনাফ সীমান্তঘেঁষা মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালায় দেশটির জান্তা বাহিনী। এরপর থেকে ওপারের রাখাইন রাজ্যে থেমে থেমে চলছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। ওপারে সংঘাতের প্রভাব যেন এপারে না পড়ে, সেজন্য কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও নাফ নদীতে টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে কোস্ট গার্ড। একইভাবে স্থলসীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।
টেকনাফ কোস্ট গার্ড স্টেশনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন বলেন, 'মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের বিষয়ে কোস্ট গার্ড সার্বক্ষণিক অবগত রয়েছে। সম্ভাব্য রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাফ নদী ও সীমান্তবর্তী জলসীমায় টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং ড্রোন পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত রয়েছে।' তিনি সীমান্তবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, 'সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবির সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি।'
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইনে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর টেকনাফের পাশাপাশি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তেও বিজিবি তাদের টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে।