কুতুবদিয়ায় শিক্ষার্থী সংকটে ভুগছে ১০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কাগজে কলমে এসব বিদ্যালয়ে সব শ্রেণি মিলে শিক্ষার্থী এক'শ জনের নীচে। কাগজে থাকলেও শিক্ষার্থী উপস্থিতির চিত্র নগন্য। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিপাকে পড়েছে শিক্ষা বিভাগ।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র মতে, ৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে জালাল উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৪ জন, লেমশীখালী পেয়ারা কাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৬ জন, আলহাজ্ব আনোয়ার আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৮ জন, কৈলাস্যাঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭০ জন, দক্ষিণ ধুরুং হাবিবিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮২ জন, নজর আলী মাতবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮৬ জন, কাজী হেলাল উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯০ জন, লেমশীখালী এম. রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯০ জন, এলাহিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
জালাল উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় ৩য় শ্রেণিতে ৩ জন, ৪র্থ শ্রেণিতে ৪ জন ও ৫ম শ্রেণিতে ৭ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিউল আজম জানান, ৫ জন শিক্ষকের মাঝে আছে ৩ জন। ৬ ক্লাশ নিয়মিত করার সুযোগ হয়না। বহিরাগত শিক্ষক দেয়া হলে ট্রেনিংয়ের জন্য চলে যান। ফলে অভিভাবকরা বাচ্চাদের নিয়ে অন্যত্র দিচ্ছেন।
আলহাজ্ব আনোয়ার আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল সাড়ে ১০টায় গিয়ে প্রাক প্রাথমিকে ৩ জন, ২য় শ্রেণিতে ২ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত পাওয়া যায়।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু আহমদ বলেন, শিক্ষক এখন ৩ জন। দুই শিফটে ক্লাশ। বাকি ক্লাশের শিক্ষার্থীরা পরে আসবেন। ওই স্কুলের ক্যাচমেন এরিয়ায় মাদরাসাসহ ৫টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তাছাড়া বর্ষাকালে যাতায়াতে দুর্ভোগে বাচ্চারা আসতে পারেনা।
দক্ষিণ ধুরুং হাবিবিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৮২ জন। কর্মরত ৩ শিক্ষকের মধ্যে এখন আছেন ২ জন, আরেক জন প্রশিক্ষণে।
সরেজমিনে দেখা যায় ৩য় শ্রেণিতে ১ জন,৪র্থ শ্রেণীতে ১জন ও ৫ম শ্রেণিতে ৭ শিক্ষার্থী উপস্থিত আছে। ছুটি দেয়ায় প্রাক-প্রাথমিক ও ১ম শ্রেণির উপস্থিতি দেখা সম্ভব হয়নি।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল আলম বলেন, স্কুল ফিডিং বন্ধ। চারপাশে ৬টি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভর্তির পরে বাচ্চাদের অভিভাবকরা নিয়ে যাচ্ছেন।
এলাহিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষক ও ১০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। সব মিলিয়ে ১৮ জন শিক্ষার্থী দেখা যায়। এখানেও স্কুল ফিডিং, আশপাশে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম।
উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং বন্ধ ও মিড ডে চালু না হওয়াসহ ক্যাচমেন এরিয়ায় কেজি স্কুল, নুরানিয়া মাদরাসা, হেফজখানা গড়ে ওঠায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার চৌধুরী মো. আজিজুর রহমান বলেন, উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয় ভিজিট করা হচ্ছে। স্কুল ফিডিং বন্ধ ও মিড ডে চালু না হওয়ায় শিশুরা বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসেনা। এছাড়া 'ক্যাচমেন্ট এরিয়ায়' ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কেজি স্কুল থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি মনে করেন।
কুতুবদিয়ায় বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশংকাজনক ভাবে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শাহীন মিয়া বলেন, 'বিদ্যালয়ের আশপাশে ধর্মীয় ও কেজি স্কুল গড়ে ওঠা, অভিভাবকদের অনিহাসহ নানা কারণ উল্লেখযোগ্য। নিয়মিত পরিদর্শন ও শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করে এই প্রভাব থেকে উত্তোলনের উপায় বের করার চেষ্টা করছি।'