কক্সবাজারের মহেশখালীর দুর্গম পাহাড়ে গোপনে চলছিল অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানা। কোস্টগার্ড জানায়, শুক্রবার (১৭ জুলাই) সেই আস্তানা থেকে কুখ্যাত মিন্টু বাহিনীর প্রধান ইমাম হোসেন মিন্টুকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে ৫টি একনলা বন্দুক, ৯টি দেশীয় পিস্তল, বিপুল পরিমাণ গুলি-কার্তুজ এবং অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম।
কোস্টগার্ডের দাবি, মিন্টুকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের বড় একটি নেটওয়ার্কে আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে। বাহিনীটির বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
কোস্টগার্ডের অপারেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন জানান, কক্সবাজারের মহেশখালী থানাধীন হোয়ানকের কেরুনতলী সংলগ্ন গহীন পাহাড়ে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী চক্র গোপনে অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিল। চক্রটি অস্ত্র ব্যবসার পাশাপাশি জলদস্যুতা, পর্যটকদের ওপর হামলা, ডাকাতি ও অন্যান্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকাল ৬টায় কোস্টগার্ড স্টেশন টেকনাফ, শাহপরীর দ্বীপ, বাহাদুরছড়া, ইনানী, কক্সবাজার ও মহেশখালীর সমন্বয়ে কুখ্যাত ‘মিন্টু বাহিনী’র আস্তানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৫টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ৯টি দেশীয় পিস্তল, একটি বিদেশি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড তাজা গোলা, ১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি দেশীয় অস্ত্র, ৩ লিটার দেশীয় মদ ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ সময় বাহিনীর প্রধান ইমাম হোসেন মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে কোস্টগার্ড কর্মকর্তা লেঃ কমান্ডার আরাফাত হোসেন বলেন, মহেশখালীর হোয়ানকের বাসিন্দা মিন্টু দীর্ঘদিন ধরে ‘মিন্টু বাহিনী’র প্রধান হিসেবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে রয়েছে ১৫টি ফৌজদারি মামলা। তাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও সাধারণ জেলে-লবণ চাষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
মিন্টু বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। জব্দকৃত আলামত ও আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যুতা, সন্ত্রাস, ডাকাতি ও অবৈধ অস্ত্র নির্মূলে কোস্টগার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।