রামুর গরজনিয়ায় মাদক, জুয়া, অস্ত্র ও চোরাচালান বিরোধী র্যালি-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, যুবসমাজকে রক্ষা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্মূলের লক্ষ্যে রামু থানার উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র্যালি ও জনসচেতনতামূলক এ সভা সর্বস্তরের লোকজন অংশ নেন।
সীমান্তবর্তী এই জনপদে ক্রমবর্ধমান অপরাধ প্রবণতা রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও সর্বস্তরের জনগণের সমন্বয়ে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (রবিবার) গর্জনিয়ার থিমছড়ি বাজার চত্বরে বিকেল ৪টা থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
থিমছড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা নাজের হোসাইন ছিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এবং পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ বক্তাগণ এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি, অস্ত্রধারী এবং সীমান্ত এলাকার চোরাচালানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। বক্তারা স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, গর্জনিয়াকে কোনোভাবেই অপরাধের নিরাপদ অভয়ারণ্য হতে দেওয়া হবে না।
সভায় প্রধান আলোচক ও বিশেষ অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন সাবেক সেনাবাহিনী কর্মকর্তা ও র্যাব (ডিএডি) আব্দুল জব্বার, গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনিরুল আলম এবং গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মৌলা চৌধুরীর সহধর্মিণী শায়লা পারভীন চৌধুরী। তাঁরা বক্তব্যে বলেন, যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হলে পরিবার ও সমাজ থেকে মাদকের শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত যে বা যারাই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন রামু থানাধীন গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) আনিসুর রহমান, এসআই শাহরিয়ার, এএসআই মোহাম্মদ ইউনুস, এএসআই টুটোল, রামু প্রেসক্লাবের সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মী মো. নুরুল হাকিম (হিরু) এবং ব্যাংক এশিয়া গর্জনিয়া বাজার শাখার পরিচালক ও ব্যাংকার জয়নাল আবেদীন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অপরাধ দমনে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পুলিশ যেকোনো মূল্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বদ্ধপরিকর।
এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য কামরুন্নাহার, থিমছড়ি ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজের, ঘিলাতলী বনবিভাগ বিট অফিসের পক্ষ থেকে বিলাশ রায়, থিমছড়ি হরিণ পাড়া এলাকার সর্দার আবুল কাশেম, পূর্ব দক্ষিণ থিমছড়ি সর্দার ও বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি আলী আহম্মদ সওদাগর, পূর্ব থিমছড়ি এলাকার সর্দার নুর আহম্মদ সওদাগর এবং বনবিভাগের সুফল এফসিভি কার্যালয় সভাপতি আবু বক্কর।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন গর্জনিয়া ইউনিয়ন আনসার ও ভিডিপি সদস্য আজিজুল হক, হারুনুর রশিদ, মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, জুনাইয়েদ; থিমছড়ি বাজারের নোমান ফার্মেসীর স্বত্বাধিকারী হাবিব উল্লাহ, সিরাজুল ইসলাম সওদাগর, মোহাম্মদ হেলাল সওদাগর, ছুরত আলম সওদাগর, আব্দুল্লাহ সওদাগর, আব্দুল আলী সওদাগর, বদিউল আলম সওদাগর, হাফেজ আহম্মদ শিক্ষক, মিজানুর রহমান ঘোনার পাড়া নুরানি মাদ্রাসার পরিচালক, থিমছড়ি হামেদীয়া দাখিল মাদ্রাসা ও খাদিজাতুল কোবরা রাঃ বালিকা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ, সৈয়দ হোসেন সওদাগরসহ বাজারের অনেক ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সমাবেশে বক্তারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সীমান্তবর্তী এই এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধ, অস্ত্র চোরাচালান এবং বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কারবার কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি ও অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার ঘোষণা দেন স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ। বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা, শিক্ষা ও নৈতিকতার পথে ফিরিয়ে আনতে সমাজকে মাদকমুক্ত করার বিকল্প নেই।
গর্জনিয়া ইউনিয়নের ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত সর্বস্তরের জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই জনসচেতনতামূলক সভাটি মোনাজাতের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং গর্জনিয়া এলাকাকে অপরাধমুক্ত রাখার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া করা হয়।