পেকুয়া উপজেলার কিংস্টন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল আমিনের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ৯ টায় মগনামা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সহকর্মী, স্বজন, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন। অধ্যক্ষ নুরুল আমিন বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) চট্টগ্রামের মেরিন সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে মগনামাসহ পুরো পেকুয়া এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার সকাল থেকেই প্রিয় শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে শেষবারের মতো দেখতে এবং জানাজায় অংশ নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ মগনামা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হতে থাকেন।
একপর্যায়ে জানাজাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতিতে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জানাজার আগে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্যে অধ্যক্ষ নুরুল আমিনের শিক্ষা ও শিক্ষকতা জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী, পেকুয়া উপজেলা কিন্ডারগার্টেন সমিতির সভাপতি মজিবুল হক চৌধুরী , ফয়েজুন্নেছা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউসুফসহ তাঁর সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
বক্তারা বলেন, নুরুল আমিন শুধু একজন অধ্যক্ষ ছিলেন না, তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে ছিলেন অভিভাবকসুলভ একজন শিক্ষক। শিক্ষা বিস্তারে তাঁর আন্তরিকতা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ তাঁকে সবার কাছে প্রিয় করে তুলেছিল। তাঁর অকাল মৃত্যু শিক্ষা অঙ্গনে অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
জানা গেছে, নুরুল আমিন পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি বৃহত্তর মগনামা ইউনিয়নের সাবেক এমইউপি মরহুম সালেহ আহমেদের পঞ্চম সন্তান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও ১২ মাস বয়সী এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।
জানাজা শেষে স্বজন, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অশ্রুসিক্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। প্রিয় শিক্ষককে হারিয়ে অনেক শিক্ষার্থী ও সহকর্মীকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
অধ্যক্ষ নুরুল আমিনের মৃত্যুতে মগনামাসহ পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।