ইরান যুদ্ধ ঘিরে গুজবের বাজারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুঞ্জন নিয়ে যুদ্ধে নেমেছে দুই দেশের সংবাদমাধ্যম।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ইরানের হামলায় নেতানিয়াহু মারা গেছেন বা আহত হয়েছেন—এমন জল্পনা হিব্রু ভাষার বিভিন্ন সূত্রে ক্রমশ বাড়ছে।
ওই খবর নাকচ করে ইসরায়েলের জেরুজালেম পোস্ট এক প্রতিবেদনে লিখেছে, নেতানিয়াহুর মৃত্যু বা আহত হওয়ার ‘গুজব ছড়াচ্ছে; ইরানি গণমাধ্যম।
পত্রিকাটি লিখেছে, “ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি সোমবার এক প্রতিবেদনে দাবি তুলেছে যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিহত বা আহত হয়ে থাকতে পারেন, যা চলমান ইসরায়েল–ইরান যুদ্ধের মধ্যে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধকালীন গুজবের নতুন উদাহরণ বলে মনে করা হচ্ছে।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। তবে স্বাভাবিকভাবেই নিশ্চিত না হয়ে এ ধরনের গুঞ্জন এরিয়ে চলছে প্রথম সারির আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। আবার কিছু ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এসব গুঞ্জন নিয়ে ‘ফ্যাক্ট চেক’ প্রতিবেদন ছেপেছে।
নেতানিয়াহু যে সত্যিই মারা গিয়ে থাকতে পারেন, তার পক্ষে কিছু যুক্তি হাজির করা হয়েছে তাসনিম নিউযজ এজেন্সির প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে, ওই জল্পনাকে উসকে দিচ্ছে কয়েকটি বিষয়।
“প্রথমত, নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত চ্যানেলে তার সর্বশেষ ভিডিও প্রকাশের পর প্রায় তিন দিন পেরিয়ে গেছে। আর তার সর্বশেষ ছবিও প্রকাশিত হয়েছে প্রায় চার দিন আগে। এরপর থেকে নেতানিয়াহুর নামে যে কয়েকটি বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলো সবই লিখিত আকারে।
“দ্বিতীয়ত, শেষ ভিডিওটি প্রকাশের আগে সাধারণত প্রতিদিন অন্তত একটি করে—কখনও কখনও তিনটি পর্যন্ত—ভিডিও প্রকাশ করা হত। কিন্তু গত তিন দিনে একটি ভিডিওও প্রকাশ না হওয়ায় জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।
“তৃতীয়ত, কয়েকটি হিব্রু সূত্র জানিয়েছে, ৮ মার্চ নেতানিয়াহুর বাসভবনের নিরাপত্তা বলয় আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য আত্মঘাতী ড্রোন হামলা মোকাবিলায় এই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
“চতুর্থত, আজকের জন্য নির্ধারিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার এবং ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফের ইসরায়েল সফর বাতিল হওয়ার ঘটনাও এ পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বলা হচ্ছে।
“পঞ্চমত, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ ও নেতানিয়াহুর মধ্যে কথিত এক ফোনালাপ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে এলিসি প্রাসাদ আলোচনার নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করেনি। সেখানে শুধু ওই কথোপকথনের একটি লিখিত পাঠ প্রকাশ করা হয়েছে।”
তবে তাসনিম নিউজ এজেন্সি এটাও লিখেছে, আনুষ্ঠানিকভাবে এসব জল্পনার বিষয়ে কিছু নিশ্চিত করা যায়নি।
অন্যদিকে জেরুজালেম পোস্ট লিখেছে, তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর ওপর কোনো হামলার প্রমাণ বা তার ক্ষতি হওয়ার বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য সরকারি ভাষ্যে উপস্থাপন করা হয়নি। বরং কয়েকটি পরোক্ষ তথ্য একত্র করে ‘সন্দেহ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে’।
ওই গুঞ্জন ‘ভিত্তিহীন’ প্রমাণ করতে জেরুজালেম পোস্টও কিছু যুক্তি তুলে ধরেছে।
তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর বক্তব্য দেওয়া হয়। এছাড়া ইসরায়েল সরকারের প্রধান ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তিনি ৬ মার্চ বিয়ারশেভায় একটি হামলাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
“সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তার জনসম্মুখের কর্মকাণ্ড নিয়েও স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাক্রোঁর সঙ্গে তার ফোনালাপ, যার কথা এলিসি প্রাসাদ জানিয়েছে এবং ৫ মার্চ জেরুজালেম পোস্টও সে বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।”
তাসনিম নিউজ এজেন্সির একটি এক্স পোস্টে বলা হয়েছে, “সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের এক মন্তব্যের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বাড়িতে ইরানের হামলায় তার ভাইয়ের নিহত এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গাভিরের আহত হওয়ার অযাচাইকৃত দাবি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।”
রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটিকে দেওয়া স্কট রিটারের কথিত সাক্ষাৎকারের একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেখানে বলা হচ্ছে, ইরান নেতানিয়াহুর বাসভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, তাতে তার ভাই আইডো নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন এবং বেন-গাভির গুরুতর আহত হয়েছেন।
আরটির ওয়েবসাইটে গিয়ে স্কট রিটারের একাধিক সাক্ষাৎকার পাওয়া গেলেও ওই কথোপকথনের ভিডিও খুঁজে পায়নি বিডিনিউজ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
তাছাড়া ওয়েবসাইটের ভিডিওতে আরটির লোগো নিচে বাঁ পাশে দেখা গেলেও, সোশাল মিডিয়ায় ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে উপরে ডান পাশে।
নেতানিয়াহুর ভাইয়ের মৃত্যুর গুঞ্জনও ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে।