বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন। জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, কক্সবাজার শাখার উদ্যোগে আজ ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (৮ মে ২০২৬), শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ সুভাষ হলে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
“আপনা-মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও কথামালার মধ্য দিয়ে বিশ্বকবির জীবনদর্শন, মানবতাবাদ, প্রেম, প্রকৃতিচেতনা ও সাম্যের বাণী তুলে ধরা হবে। এতে অংশ নেবেন সংগঠনটির জেলা কমিটির শিল্পীরা এবং কক্সবাজারের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মী।
সংগঠনের সভাপতি পংকজ বৈদ্য বলেন, “বর্তমান প্রজন্মকে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ততার ভেতর থেকেও শেকড়ের সংস্কৃতি ও মননের সঙ্গে যুক্ত রাখতে রবীন্দ্রচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মধ্যে সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হবে।”
জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, কক্সবাজার শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজীব কর্মকার বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল বাংলা সাহিত্য বা সংগীতের নন, তিনি বাঙালির সামগ্রিক মনন ও চেতনার প্রতীক। তাঁর সাহিত্য, গান ও দর্শন আমাদের ব্যক্তি ও সমাজজীবনে মানবিকতা, উদারতা এবং মুক্তচিন্তার শিক্ষা দেয়। আমরা বিশ্বাস করি, সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়েই একটি সুস্থ ও মননশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। সেই দায়বোধ থেকেই আমাদের এই আয়োজন।”
সংগঠনের সিনিয়র সদস্য সুভাষ কান্তি দাশ বলেন, “রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির মূল শক্তি মানবপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা। বর্তমান সমাজে যে হিংসা, বিভাজন ও অসহিষ্ণুতা আমরা দেখতে পাই, তার বিপরীতে রবীন্দ্রচেতনা হতে পারে শান্তি ও সম্প্রীতির এক শক্তিশালী বার্তা। আমরা চাই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের অন্তর্গত সৌন্দর্য ও বিবেককে জাগ্রত করতে।”
আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দরা বলেন, “রবীন্দ্রনাথ আমাদের শিখিয়েছেন কিভাবে মানুষকে ভালোবাসতে হয় এবং কিভাবে নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধারণ করে বিশ্বমানবতার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে হয়। তাই রবীন্দ্রজয়ন্তী শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়, এটি আমাদের আত্মিক ও সাংস্কৃতিক চর্চারও অংশ।”
বর্তমান সময়ের সামাজিক অস্থিরতা, বিভাজন ও মূল্যবোধের সংকটের প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রচর্চা মানুষের মাঝে সহমর্মিতা, মানবিকতা ও সৌন্দর্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নতুন প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্রনাথের চিন্তা ও সৃষ্টিকে আরও গভীরভাবে পৌঁছে দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও রবীন্দ্রপ্রেমীরা উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।