লোকে লোকারণ্য, যেন সাগরতীরজুড়ে পা ফেলারও জায়গা নেই। ঈদের ছুটিতে সাগরপাড়ে ভিড় করেছেন হাজারো ভ্রমণপিপাসু মানুষ। পরিবার-পরিজন নিয়ে নোনাজলে কিংবা বালিয়াড়িতে কাটছে আনন্দঘন মুহূর্ত। আর তাদের নিরাপত্তায় সর্বদা সজাগ রয়েছে লাইফগার্ড সংস্থা ও ট্যুরিস্ট পুলিশ।
ঈদের দিন বৃষ্টি হলেও দ্বিতীয় দিন রোববার (২২ মার্চ) কক্সবাজারে নেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, নেই বৈরী আবহাওয়া। সাগরের নোনাজল যেন আহ্বান জানাচ্ছে পর্যটকদের। চেনা রূপে ফিরেছে সাগরপাড়।
কানায় কানায় পূর্ণ পুরো সমুদ্রসৈকত। মাদ্রাসা পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটারজুড়ে শুধু মানুষ আর মানুষ। কেউ মেতেছেন নোনাজলের ঢেউয়ে, কেউবা বালিয়াড়িতে আনন্দে মগ্ন।
নারায়ণগঞ্জ থেকে পর্যটক রাবেয়া রহমান বলেন, মনে হয়েছিল ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটক কম হবে। কিন্তু এসে দেখি সাগরতীরে পা ফেলার জায়গা নেই। এত মানুষ, এত হৈ হুল্লোড় আগে দেখিনি। খুব আনন্দ লাগছে এত মানুষের আনন্দ দেখে।
সাত বন্ধু মিলে ঈদ আনন্দ করতে সিলেট থেকে ছুটে এসেছেন কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে। তাদের মধ্যে ৬ জন সেলফি, নোনাজলে সমুদ্রস্নান আর দুষ্টুমিতে মেতে রয়েছেন। কিন্তু তাদের একজন রাহাতুল ইসলাম, যে ব্যস্ত ড্রোন ওড়ানো নিয়ে। কথা হয় তার সঙ্গে, রাহাতুল ইসলাম বলেন, ড্রোন উড়িয়ে দেখছি কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত কত মানুষ হবে। কিন্তু ড্রোন যতই উপরে তুলছি দেখছি ততই মানুষ। মনে হয়, ২ লাখের কাছাকাছি মানুষ হবে। ড্রোনের ছবি ও ভিডিও নিতে খুব ভালো লাগছে।
পরিবারের ৫ সদস্য নিয়ে ঢাকার মিরপুর থেকে এসেছেন ব্যাংকার আব্দুস সোবহান। তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন কক্সবাজারে এসেছি, কিন্তু বৃষ্টির কারণে তেমন ভালো লাগেনি। আজকে দেখি চমৎকার আবহাওয়া। খুব বেশি আনন্দ করছি।’
এদিকে পর্যটকের চাপ বাড়ায় ব্যস্ততা বেড়েছে লাইফগার্ড কর্মীদের। ওয়াচ টাওয়ার থেকে নজরদারির পাশাপাশি সার্বক্ষণিক টহল ও মাইকিং চালানো হচ্ছে। তবে জনবল স্বল্পতায় দায়িত্ব পালনে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। অন্যদিকে, বালিয়াড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র-সবখানেই নিরাপত্তা জোরদার করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার প্রজেক্ট কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, দেড় মাসের পর্যটকের খরা কাটিয়ে ঈদের ছুটিতে পর্যটকে মুখরিত। লাখের বেশি পর্যটকের সমুদ্রস্নানে নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কারণ লাখের বেশি পর্যটকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে মাত্র ২৭ জন কর্মী। তারপরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে পর্যটকদের সমুদ্রস্নানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়া যায়।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের উপ-পরিদর্শক সুজন চক্রবর্তী বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। ঈদের ছুটিতে যেহেতু বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন হয়েছে, সেক্ষেত্রে বালিয়াড়ি থেকে হোটেল মোটেল জোন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি পর্যটকদের ভিড় দেখা গেছে মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি, ইনানী ও পাতুয়ারটেক এলাকাতেও। ঈদের ছুটিতে প্রকৃতি আর সমুদ্রের টানে মুখর পুরো কক্সবাজার।