কক্সবাজার মহকুমা থাকার সময় পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সভায় ১৯৫৭ সালে মৌলভী ফরিদ আহমদ (এডভোকেট) শ্রম মন্ত্রী ছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর একজন যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী পেয়ে অনেক আনন্দিত হয়েছিলেন কক্সবাজারবাসী। সুযোগ পেয়ে তখন তিনি অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তার বিপুল উন্নয়নমূলক কাজের পুরস্কার হিসেবে কক্সবাজারবাসী তাকে এবার ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচিত করেছেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে জেলার অপর তিনটি আসনেও বিপুল ভোটে বিএনপি প্রার্থীদের জয়যুক্ত করেছেন। আল্লাহর রহমতে ও কক্সবাজারবাসীর দোয়ায় জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার জেলা থেকে প্রথম বারের মত পূর্ণ মন্ত্রী হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। আরো বড় কথা হল তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। স্বাধীন বাংলাদেশে কক্সবাজার থেকে প্রথম পূর্ণমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাওয়ায় কক্সবাজারবাসী অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছেন ও সুনামের সাথে সফলভাবে দায়িত্ব পালনের তওফিক দেওয়ার জন্য দোয়া করছেন। বাংলাদেশে মব-সন্ত্রাস, মাদক কারবার, দুর্নীতি ও ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে জনগণ যখন চরম অসন্তোষ্ট ও হতাশ তখনই তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহন করে পুুলিশসহ অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়ে দ্রুত জনপ্রত্যাশা পূরণ করতে হবে বলে তার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের সাথে মতবিনিময় সভায় নির্দেশ দিয়েছেন।
স্বাধীন বিচার বিভাগের সফলতা,ন্যায় বিচার ও দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার প্রাথমিক ভুমিকা তার সন্ত্রণালয়কে সাহসিকতা,দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার সাথে পালন করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইন অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। সব কিছু আইন অনুযায়ীই করতে হবে। স্বজনপ্রীতি, দলপ্রীতি, আঞ্চলিকতাপ্রীতির উর্ধ্বে উঠে দেখাতে হবে আপনি যারা আপনাকে ভোট দিয়েছেন, যারা ভোট দেন নাই, যারা ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন সকলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আপনি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। যে যেটুকু অপরাধ করেছে তার জন্য তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। ছোট হউক, বড় হউক প্রত্যেক অপরাধের বিচারের ব্যবস্থা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। কোন অপরাধীই বিনাবিচারে থাকতে পারবে না। অপরাধীকে দ্রুত বিচারের জন্য তদন্ত প্রতিবেদন বা অভিযোগপত্র দিয়ে আদালতে প্রেরণের ব্যবস্থা করতে হবে। তদন্তকাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সকল ধরনের দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্ব বা অযোগ্যতার বিচারও করতে হবে। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যেক মামলার তদন্ত সমাপ্ত করে নির্দোষ মানুষকে অব্যাহতির ও দোষীদের বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপার্দ্দ করতে হবে। আবার গায়েবী মামলা, মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও হয়রানীমূলক মামলা দায়েরকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করে শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কোন অজুহাতেই মব-জাস্টিস বা মব-সন্ত্রাস সহ্য করা যাবে না, কারণ তা প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। মব-সন্ত্রাস আইনের শাসনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী, ন্যায় বিচারের শত্রু, ইনশাফের দুশমন।