২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে এখন থেকেই ফুটবল জ্বরে কাঁপছে উপকূলীয় শহর টেকনাফ। প্রিয় দল ব্রাজিলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে শত শত সমর্থক অংশ নিয়েছেন বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায়। ব্রাজিলের পতাকা, জার্সি আর স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মেরিন ড্রাইভ এলাকা। সমর্থকদের আশা; নেইমারের হাত ধরেই আবারও শিরোপা জিতবে ব্রাজিল।
প্রিয় দলের জার্সি গায়ে, হাতে ব্রাজিলের সবুজ-হলুদ পতাকা। শত শত মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে যেন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছিল টেকনাফ।
বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো বাকি অনেকটা সময়। কিন্তু তার আগেই ফুটবল উন্মাদনায় মেতে উঠেছেন ব্রাজিল সমর্থকেরা। সোমবার (২৫ মে) দুপুরে উপজেলা গেইট থেকে শুরু হয় এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। পরে টেকনাফ স্থলবন্দর হয়ে মেরিন ড্রাইভ জিরো পয়েন্টে মিলিত হয় শত শত সমর্থকের বহর।
ব্রাজিল সমর্থকদের আশা, ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে নেইমারের হাত ধরেই আবারও শিরোপা জিতবে ব্রাজিল।
ব্রাজিল সমর্থক মুর্শেদ আলম বলেন, “নেইমার দলে ফেরায় ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আনন্দ-উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। সবাই ব্রাজিলের জন্য দোয়া করবেন। আমরা আশা করি, এবার ব্রাজিলের ‘হেক্সা মিশন’ সফল হবে।”
আরেক সমর্থক রিয়াজ বলেন, “নেইমার ব্রাজিলের মূল দলে ফেরায় বিশ্বকাপের উন্মাদনা আরও বেড়ে গেছে। আমরা আশাবাদী, সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে নেইমারের হাত ধরেই ব্রাজিল তাদের কাঙ্ক্ষিত ‘হেক্সা মিশন’ পূরণ করতে পারবে।”
শাহ আলম বলেন, “আজকের এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রিয় দল ব্রাজিলকে শুভকামনা জানিয়েছি। ব্রাজিল ফ্যান ক্লাবের উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়েছে, যাতে নতুন প্রজন্ম ও ছোট ভাইয়েরা ফুটবলের প্রতি আরও উৎসাহিত হয়। আমরা সমর্থকদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখারও চেষ্টা করছি। বিশ্বের ফুটবল ইতিহাসে ব্রাজিলই একমাত্র দল, যারা প্রতিটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছে।”
শোভাযাত্রাজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয়রাও করতালি দিয়ে স্বাগত জানান সমর্থকদের। তরুণ-যুবকদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন এই আয়োজনে।
আয়োজকদের ভাষ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিল স্কোয়াডকে স্বাগত জানাতেই এই শোডাউনের আয়োজন। তাদের আশা, এই উন্মাদনা গণমাধ্যমের মাধ্যমে ব্রাজিল পর্যন্ত পৌঁছাবে এবং ‘হেক্সা মিশন’ সফল হবে।
আয়োজকদের একজন বাহাউদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ উপজেলা টেকনাফ থেকে আমরা সারা বিশ্বকে জানিয়ে দিতে চাই—এ দেশেও ব্রাজিলের অসংখ্য উন্মাদ সমর্থক রয়েছে। আমরা চাই, আজকের এই শোডাউনের খবর গণমাধ্যমের মাধ্যমে ব্রাজিল পর্যন্ত পৌঁছাক। একই সঙ্গে আমাদের প্রত্যাশা, ব্রাজিলের ‘হেক্সা মিশন’ সফল হবে এবং সারা দেশের ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে আমরা সেই আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবো।”
আয়োজকদের আরেকজন হেলাল উদ্দিন বলেন, “ফুটবল বিশ্বকাপ বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিনোদনের আসরগুলোর একটি। প্রতি চার বছর পরপর এই আয়োজনকে ঘিরে সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা উন্মাদনায় মেতে ওঠেন। সেই আবেগ থেকেই বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ উপজেলা টেকনাফের ব্রাজিল সমর্থকেরা একত্রিত হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিল দলকে স্বাগত জানিয়েছি।
আমাদের মূল উদ্দেশ্য ফুটবলকে উপভোগ করা এবং এই আনন্দ সবাই মিলে ভাগাভাগি করা। পাশাপাশি ভ্রাতৃত্ববোধ ও সুস্থ বিনোদনের সংস্কৃতি বজায় রেখে যেন সবাই সুন্দরভাবে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই আজকের এই শোডাউনের আয়োজন করা হয়েছে।”
বিশ্বকাপ ঘিরে টেকনাফজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। বাসাবাড়ির ছাদ, দোকানপাট আর সড়কের পাশে শোভা পাচ্ছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানির পতাকা। প্রিয় দলের রঙে বাড়ি সাজানো আর বড় পতাকা টানানো নিয়েও চলছে সমর্থকদের প্রতিযোগিতা।
বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল-যারা পাঁচবার জিতেছে বিশ্বকাপ শিরোপা। আর সেই গৌরবের স্মৃতি বুকে নিয়েই নতুন স্বপ্ন দেখছেন টেকনাফের সমর্থকেরা।