কক্সবাজারের রামুতে চালককে হত্যা করে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা (মিশুক) গাড়ি ছিনতাই করেছে সংঘবদ্ধ চক্র। নিহত অটো চালক শামসুল আলম কক্সবাজার পৌরসভার পাহাড়তলী খাজা মঞ্জিল এলাকার আশরাফ মিয়ার ছেলে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকালে রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা এলাকায় বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন পরিচালিত রামু রাবার বাগানের কারখানার পেছনে পাহাড়ি ঝিরিতে মৃতদেহটি দেখতে পায় স্থানীয়রা।
পরে পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীরা মৃত ব্যক্তির পরিচয় পেতে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ছবিসহ প্রচার করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে মৃত ব্যক্তিকে চিনতে পারেন স্বজনরা। রাতে স্বজনরা কক্সবাজার থেকে রামু থানায় ছুটে আসেন।
নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন- আগেরদিন (সোমবার) সন্ধ্যায় বাড়িতে কাঁচা বাজার দিয়ে গাড়ি চালানোর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যান। রাতে বাসায় না ফেরায় এবং মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে জানতে পারেন রামু রাবার বাগান থেকে পুলিশ শামসুল আলমের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।
শামসুল আলমের স্বজনরা জানান- মিশুক গাড়িটি ছিনতাই করার জন্যই সংঘবদ্ধ চক্র তাকে রাবার বাগানে নিয়ে হত্যা করেছে। তাঁরা এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে রামু থানা কম্পাউন্ডে শামসুল আলমের মৃতদেহ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্বজনরা। এসময় সেখানে হৃদয় বিদারক দৃশ্যে অবতারনা হয়। নিহত শামসুল আলম ২ সন্তানের জনক। গাড়ি চালিয়ে তিনি সংসারের জীবিকা নির্বাহ করতেন।
রামু অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন- পাহাড়ের নির্জন এলাকায় থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ রাতে মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বজনরা মৃতদেহ শনাক্ত করেছে। এ ব্যাপারে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য সাম্প্রতিক সময়ে রামুতে আরও একাধিকবার চালককে হত্যা করে গাড়ি ছিনতাইয়ের মতো লোমহর্ষক ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। একের পর এক হত্যা ও গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনায় জনমনে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।