স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনার পর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। অভিযানের প্রথম দিনে ৩০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও শুক্রবার (১৩ মার্চ) দ্বিতীয় দিন ২ ঘন্টার অভিযানে উচ্ছেদ করা হয়েছে শতাধিক স্থাপনা। ব্যবসায়ীরা পুনর্বাসনের দাবি করলেও প্রশাসন বলছে, বালিয়াড়ির সকল স্থাপনা অবৈধ, ধারাবাহিকভাবে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়ি; সাগরতীর ঘেঁষে বালিয়াড়িতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য স্থাপনা। প্রশাসন বলছে, বালিয়াড়ির সব স্থাপনা অবৈধ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনার পর এসব স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন।
শুক্রবার বিকেল ৪ টায় অভিযানে সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়ি থেকে স্থাপনা কেউ স্ব-উদ্যোগে সরিয়ে নিচ্ছে, আবার কেউ কেউ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু যেসব স্থাপনার মালিক পাওয়া যাচ্ছে না তা দ্রুত শ্রমিকের মাধ্যমে তোলা হচ্ছে ট্রাকে। অভিযানের প্রথম দিন ৩০টির মতো স্থাপনা করা হলেও দ্বিতীয় দিন দু’ঘন্টার অভিযানে উচ্ছেদ করা হয়েছে শতাধিক স্থাপনা। তবে এই উচ্ছেদ কার্যক্রম নিয়ে ক্ষুদ্ধ ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি-বিকল্প পুনর্বাসন করে যেন তাদের উচ্ছেদ করা হয়।
দোকানদার আব্দুল আলীম নোবেল বলেন, “এটা শুধু আমার বিষয় নয়। এখানে যেসব দোকান ভাঙা হচ্ছে, প্রায় সব দোকানই জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের কাছে বিভিন্নভাবে টাকা দিয়েছে। কেউ ৪০ হাজার, কেউ ৫০ হাজার, কেউ ৬০ হাজার, আবার কেউ এক লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়েছে। এখানে প্রায় প্রতিটি দোকান থেকেই টাকা নেওয়া হয়েছে।”
উচ্ছেদ হওয়া দোকানদার রফিক বলেন, এক দোকানদার বলেন, “গতকাল এখান থেকে প্রায় ২০ টির বেশি দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। আমরা কোনো উচ্ছেদ নোটিশ বা কাগজ দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে চায়নি। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে কাগজ দেখানোর কথা বললেও তারা বলেন, কিছু দেখার প্রয়োজন নেই-সব দোকান সরিয়ে নিতে হবে। সবগুলোই উচ্ছেদ করা হবে।”
উচ্ছেদ হওয়া আরেক দোকানদার মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে বালিয়াড়িতে বৈধভাবে সরকারকে রাজস্ব দিয়ে ব্যবসা করে আসছি। এখন বলা হচ্ছে এখানে নাকি আমাদের কোনো অনুমোদন নেই। যদি অনুমোদনই না থাকে, তাহলে আমাদেরকে কার্ড দেওয়া হয়েছিল কেন? প্রতিবছর আমাদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে নবায়ন ফি নেওয়া হয়েছে কেন? আমাদের কার্ডের মেয়াদ এখনো জুন পর্যন্ত আছে। অথচ হঠাৎ করে এসে বলা হচ্ছে, এখানে আর কোনো দোকান রাখা যাবে না।”
বৃহত্তর সুগন্ধা বিচ মার্কেট সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, “আমাদেরকে উচ্ছেদের আগে বিকল্প ব্যবস্থা করার কথা ছিল। এমপি মহোদয় ও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকেও এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে বিকল্প ব্যবস্থা করে তারপর আমাদের সরানো হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও দায়িত্ব দিয়েছেন প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সৈকতে সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে। কিন্তু কোথাও সুগন্ধা বিচকে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। অথচ বারবার সুগন্ধা বিচকে টার্গেট করে একটি বিতর্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা বিকল্প ব্যবস্থা চাই। বিকল্প ব্যবস্থা করার আগে যেন আমাদের মতো গরিব মানুষের বুকে লাথি না মারা হয়-এটাই আজকের আমাদের অনুরোধ।”
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ১ম দিনের অভিযানে একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, কয়েকজন আনসার ও বিচ কর্মী থাকলেও শুক্রবার (১৩ মার্চ) ২য় দিনের অভিযানে যোগ দেয় আরও কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ বিপুল সংখ্যক সদস্য। উচ্ছেদ কার্যক্রমের ভিড় সামাল দিতে করা হয় মাইকিং।
প্রশাসন বলছে, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা অবৈধ। ধারাবাহিকভাবে সকল স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের (পর্যটন সেল) নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মনজু বিন আফনান বলেন, “বালিয়াড়িতে দোকান থাকলেই তা অবৈধ বলে গণ্য হবে। সামনে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বালিয়াড়িতে কোনো অবৈধ দোকান বা স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না-এ বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। এছাড়াও এ বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা আছে এবং পরিবেশ অধিদপ্তরেরও স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।”
গত ৯ মার্চ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সমুদ্রসৈকতে থাকা সব ধরনের অবৈধ ও অস্থায়ী স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে অপসারণ করা হবে।