সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারে ১১জন মাঝিমাল্লা ও যাত্রীসহ ৭৬জন উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দিবাগত রাতে সমুদ্রে নিয়মিত টহলকালে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ একটি ট্রলারসহ মানব পাচারকারী চক্রের ১১জন সদস্যকে আটক এবং মালয়েশিয়া গমনে প্রতারণার শিকার ৬৫জনকে উদ্ধার করেছেন।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, সেন্ট মার্টিন লাইট হাউজ থেকে আনুমানিক ৮১ মাইল দূরে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত এফভি ক্রিস্টাল-১ নামক একটি বোট সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল অবস্থায় অপর একটি ভাসমান কাঠের বোট দেখতে পায়। পরবর্তীতে সমুদ্রে ভাসমান বোটটিকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে এগিয়ে গেলে বোটটির কয়েকজন ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। বিষয়টি এফভি ক্রিস্টাল-১ কর্তৃক তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে অবহিত করা হয়। এসময় সেন্ট মার্টিন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় টহলরত বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাসমান বোটটিকে উদ্ধার করে। বোটটিতে পানি প্রবেশ করতে থাকায় নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় ভাসমান বোটে থাকা ৭৬ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে বোটটি থেকে উদ্ধারকৃত ৭৬ জনের মধ্যে ১১ জন মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য চিহ্নিত করত তাদেরকে আটক করা হয় এবং অপর ৬৫ জন মালয়েশিয়া গমনে প্রতারণার শিকার। তাঁদের অধিকাংশই মানব পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে অপহৃত হয়ে টেকনাফের দুর্গম এলাকায় আটক ছিল। তাঁদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে নেওয়া হচ্ছিল। বোটটি অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাত্রী পরিবহণে নিয়োজিত ছিল। আটক ব্যক্তি ও জব্দ ট্রলারটিব আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এ সফল অভিযানের মাধ্যমে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের আটক করার পাশাপাশি সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। বোটটির ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে বোটে পানি প্রবেশ করায় এতে অবস্থানরত যাত্রীদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি থেকে ৭৬ জনের জীবন রক্ষায় নৌবাহিনীর পেশাদারিত্ব, অপারেশনাল সক্ষমতা ও মানবিক দায়িত্ববোধের প্রতিফলন ঘটেছে । বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানব পাচার ও চোরাচালান দমন এবং সমুদ্রে সংঘটিত সকল ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।