প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন থেকে দুই দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ১ হাজার ৮৫০ কেজি বর্জ্য সরিয়ে নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কেওক্রাডং বাংলাদেশ’। এটি সেন্টমার্টিনে সংগঠনটির ১৫তম পরিচ্ছন্নতা অভিযান।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে দুই দিনব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষ হয়। ইউনিলিভার বাংলাদেশের সহযোগিতায় এতে স্থানীয় লোকজন, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং সেন্টমার্টিনের স্কুল-মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন।
কেওক্রাডং বাংলাদেশের সমন্বয়কারী মুনতাসির মামুন বলেন, ‘দুই দিনব্যাপী সেন্টমার্টিনের অলিগলি ও সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্লাস্টিক বোতল, চিপসের প্যাকেটসহ নানা ধরনের অপচনশীল ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করা হয়েছে।’ তিনি জানান, এর আগেও সংগঠনটির উদ্যোগে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপে এ ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়েছিল।
কেওক্রাডং বাংলাদেশকে স্বাগত জানিয়ে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ছৈয়দ আলম বলেন, ‘সেন্টমার্টিনকে পরিষ্কার রাখার জন্য ১৫ বছর ধরে এই কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। এভাবে সবাই এগিয়ে এসে নিজেদের দায়িত্ব পালন করলে সেন্টমার্টিনের জন্য খুবই উপকারী হবে।’
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি প্রতি বছরের মতো এ বছরও সেন্টমার্টিনে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছে, যা দ্বীপটির জন্য খুব উপকারী।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য প্রতি বছর হাজারও পর্যটক এই দ্বীপে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের কারণে সৈকতে নানা ধরনের বর্জ্য জমা হয়ে থাকে। কেওক্রাডংয়ের মতো সংস্থার প্রশংসনীয় উদ্যোগের কারণে দ্বীপের সৌন্দর্য ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।’
পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিয়ে মুনতাসির মামুন বলেন, ‘সেন্টমার্টিনে সারা বছর পর্যটক আসার সুযোগ দিলে ভালো হয়। তবে খুব সীমিত সংখ্যক পর্যটক আসতে দিতে হবে। এমনটা হলে দ্বীপের ওপর পর্যটকদের অতিরিক্ত চাপ পড়বে না।’
পরিবেশ রক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেন্টমার্টিনের মতো ছোট দ্বীপে পড়ে থাকা প্লাস্টিক যদি মূল ভূখণ্ডে নিয়ে আসা না হয়, তবে এর পরিণাম শুধু এই দ্বীপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; ছড়িয়ে পড়বে বঙ্গোপসাগরেও। আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস ছিল সামর্থ্য অনুযায়ী সেই পরিণামকে যতটা সম্ভব সীমিত করা।’