কক্সবাজার সমুদ্রে গোসলে নেমে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (০৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইয়াছিন আরাফাত (২০), কক্সবাজার শহরের পেশকারপাড়া বাসিন্দা আলিম হোসেনের ছেলে।
সি সেফ লাইফ গার্ড এর কর্মী মো. শুক্কুর বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সকাল থেকে সুগন্ধা পয়েন্টে হাজারো পর্যটক সমুদ্রস্নান করছে। তার মাঝে হঠাৎ খবর পায় দুই যুবক গোসলে নেমে ভেসে যাচ্ছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে আরেকজনকে অনেক খোঁজাখুঁজির পর উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক উদ্ধার ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করে। পরে তার বন্ধুদের মাধ্যমে জানা যায়, তার নাম ইয়াছিন আরাফাত এবং শহরের পেশকারপাড়ার বাসিন্দা। সকালে চার বন্ধু মিলে গোসলে নেমেছিল।
ইয়াছিন আরাফাতের বাবা আলিম হোসেন বলেন, সকাল ৮টার পর ইয়াছিন বাসা থেকে বের হয়। তখন পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন, তাই কেউ বুঝতে পারেননি সে কোথায় গেছে। পরে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সাগরে গোসল করতে গিয়ে সে পানিতে ডুবে যায়। সকাল ১০টার পর খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে চিকিৎসক জানান, ইয়াছিন মারা গেছে।
তিনি বলেন, ইয়াছিন প্রতি শুক্রবার বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে যেত। সে সাঁতার জানত না। রামু কলেজে লেখাপড়ার পাশাপাশি দোকানেও মাঝেমধ্যে কাজ করত।
ইয়াছিনের বন্ধু আরিফুল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চার বন্ধু মিলে বাসা থেকে বের হয়ে প্রথমে কলাতলী সৈকতে যান। পরে তারা সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটির পর গোসল করতে নামেন। এ সময় ইয়াছিন স্রোতে ভেসে যেতে শুরু করলে এক বন্ধু তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। প্রায় দুই মিনিট ধরে রাখলেও শেষ পর্যন্ত তিনিও তাকে উদ্ধার করতে পারেননি।
তিনি বলেন, এরপর তারা দ্রুত লাইফগার্ডদের খবর দেন এবং পুলিশ বক্সে গিয়ে অভিযোগ করেন। পরে উদ্ধারকারীরা তল্লাশি চালিয়ে ইয়াছিনকে খুঁজে পান।
নাম প্রকাশ্যে আরেক বন্ধু বলেন, 'গোসলের সময় ইয়াছিন হঠাৎ গভীর পানিতে চলে গেলে তিনি তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। প্রায় দুই থেকে তিন মিনিট ধরে তাকে ধরে রাখলেও প্রবল স্রোতের কারণে দুজনই ভেসে যেতে থাকেন। তিনি আশপাশের লোকজনকে সাহায্যের জন্য ডাকলেও কেউ এগিয়ে আসেননি। একপর্যায়ে তিনি নিজেও পানির নিচে তলিয়ে যেতে থাকায় ইয়াছিনকে আর ধরে রাখতে পারেননি।'
ইয়াছিন আরাফাতের বন্ধুদের দাবি, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা জরুরি। তারা বলেন, সৈকতে লাইফগার্ড ও উদ্ধারকর্মীর সংখ্যা খুবই কম। উন্নত প্রযুক্তি ও পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা হলে অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। তারা দাবি করেন, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পর্যটক এলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সে তুলনায় অপর্যাপ্ত। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও সরকারের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এদিকে প্রশাসন জানায়, নিহতের মরদেহ আইনী প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।