কক্সবাজারে সরকারি হাসপাতালে রোগীকে মাদকের চালান দিতে গিয়ে হাতেনাতে ১৭ হাজার ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় হাসপাতালের চিকিৎসাধীন সেই রোগী, যার কাছে ইয়াবা পৌঁছানোর কথা ছিল।
পুলিশ বলছে, এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত মাদক পাচার কৌশল, যেখানে জনসমাগমপূর্ণ হাসপাতালকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। ঘটনার পর পুরো চক্রকে শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
রাত ৯টা; কক্সবাজার ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালের এআরটি সেন্টার। রোগীদের আনাগোনার মধ্যেই সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে অসংখ্য নীল প্যাকেট। একে একে প্যাকেটগুলো খুলে বের করা হচ্ছে ইয়াবা। প্রতিটি প্যাকেটে রয়েছে ৯০ থেকে ১০০টি করে ইয়াবা ট্যাবলেট। আটক স্বামী-স্ত্রীর সামনেই জব্দ করা এসব ইয়াবা গণনা করে পুনরায় প্যাকেটজাত করছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ দেখে বিস্মিত উপস্থিত অনেকেই।
পুলিশ জানায়, টেকনাফের হোয়াইক্ষ্যং থেকে সিএনজিযোগে স্বামী-স্ত্রী মিলে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে কৌশলে চালান দিতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আসে। আর বিকেল থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেয় পুলিশের একাধিক টিম। টানা বৃষ্টির মধ্যেও চলে নজরদারি। পরে রাতে সদর হাসপাতালে পৌঁছামাত্র অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় জব্দ করা হয় ১৭ হাজার ইয়াবা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর কাছে ইয়াবার চালান পৌঁছে দিতেই এসেছিলেন ওই স্বামী-স্ত্রী। হাসপাতালকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে কোনো সংঘবদ্ধ মাদক চক্র সক্রিয় রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক শেখ মো. আলী বলেন, টেকনাফের হোয়াইক্ষং এলাকা থেকে একটি সিএনজি যোগে স্বামী-স্ত্রী দুইজন ইয়াবা নিয়ে সদর হাসপাতালের দিকে আসছে-এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে।
তিনি বলেন, প্রায় বিকেল চারটা থেকে বৃষ্টির মধ্যেও বিভিন্ন স্থানে একাধিক টিম অবস্থান নেয়। পরে সিএনজিটি সদর হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন আয়েশা আক্তার ও জাগির।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজন রোগী, জোবায়ের (প্রকাশ ফরিদ), এই লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত। তবে অভিযানের পর জোবায়ের (প্রকাশ ফরিদ) কে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। তারা হাসপাতালকে ব্যবহার করে কৌশলে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কোন সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কিনা তাও তদন্ত করা হচ্ছে। আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে হাসপাতালকে কেন্দ্র করে ইয়াবা লেনদেনে স্বামী-স্ত্রী আটকের ঘটনায় পুরো এলাকায় ছড়িয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ। স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসাসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে মাদকের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
হাসপাতাল ভর্তি রোগীর স্বজন সাজ্জাদ বলেন, “হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা এবং রোগীদের ব্যবহার করে যদি কেউ মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে, তাহলে এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক বিষয়। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।”
অভিযানে আটক জাগির হোসেন ও আয়েশা বেগম, দুজনই টেকনাফের হ্নীলা এলাকার নয়াপাড়ার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।