কক্সবাজার টু ঢাকা রেল লাইনে যাত্রীদের চাহিদা থাকলে-ও লোকোমোটিভ ও গ্যারেজের অভাবে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। রেল পরিবহন ব্যবস্থায় এ দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই সংকট নিরসনে ইতিমধ্যে দুটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি এবং অল্প সময়ের মধ্যেই লোকোমোটিভ ও গ্যারেজ পেয়ে যাবো।
বুধবার ( ০৯ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে কক্সবাজার -৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি এ কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, ঢাকা থেকে কক্সবাজার খুবই লাভজনক একটা রেললাইন। আমরা বেসরকারি খাতের বিষয়টিও মাথায় রেখেছি। বেসরকারি খাতে
ট্রেন চলাচলের জন্য আরও কয়েকটি প্রস্তাবনাও আছে। সেগুলো আমরা পরিক্ষা নিরিক্ষার করছি, বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আশা করি বেসরকারি উদ্যেগে হলেও লাইনটিতে ট্রেন বাড়ানোর উদ্যেগ নেওয়া হবে।
সংসদে রেলমন্ত্রীর কাছে লুৎফুর রহমান কাজল এমপি জানতে চান, কক্সবাজার একটি আইকনিক রেল স্টেশন আছে, এই লাইনে যাত্রীদের চাহিদা অনেক, কিন্তু সেই তুলনায় ট্রেন কম। মাত্র দুই জোড়া ট্রেন চালু থাকলেও চাহিদার তুলনায় কম।
কক্সবাজার-ঢাকা এবং কক্সবাজার -চট্টগ্রাম রুটে রেলের সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে রেলমন্ত্রী উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
গত মাসের ( ০১ আগস্ট ) শনিবার সকাল ১০টায় কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন পরিদর্শন করেছিলেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। তখন তিনি বলেছিলেন, চলতি আগস্ট মাসেই ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আরও একজোড়া নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হবে। একই সঙ্গে দেশের অন্যতম আধুনিক কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্যে এর পরিচালনার দায়িত্ব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারে প্রতিনিয়ত যাত্রী ও পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। তাই চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং যাত্রীসেবা আরও আধুনিক করার উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন ট্রেন চালু হলে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে। টিকিটের চাপও অনেকটা হ্রাস পাবে। পাশাপাশি ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ভ্রমণ আরও সহজ, আরামদায়ক ও সময়োপযোগী হবে।
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনকে শুধু একটি রেলস্টেশন হিসেবে নয়, আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনবান্ধব রেল হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যেই স্টেশনটির পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা নিশ্চিত করতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তখন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।