কক্সবাজারের রামু উপজেলায় চিহ্নিত এক ডাকাতের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, গুলি ও বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামাদিসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া।
আটক সাতজন হলেন- আমির হোসেন ওরফে কালাবাঁশি, হেলাল উদ্দিন, আবুল কাশেম, মো. আলমগীর, শফিউল করিম, সুবাস প্রকাশ শুভ রাজ ও শেফায়েত নুর। তারা সবাই রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের বড় ধলিরছড়া সহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি রামুর যোগাযোগে দুর্গম কয়েকটি এলাকায় ছিনতাইসহ নানা অপরাধের মাত্রা বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বিশেষ দল গঠন করে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মঙ্গলবার ভোরে রামুর রশিদনগর ইউনিয়নের বড় ধলিরছড়া এলাকায় চিহ্নিত ডাকাত আমির হোসেন ওরফে কালাবাঁশির বসতঘরে কতিপয় লোকজন জড়ো হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল বসত ঘরটি ঘিরে ফেললে উপস্থিতি টের পেয়ে ১০-১৫ জন সন্দেহজনক লোক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা চালায়। এ সময় ধাওয়া দিয়ে সাতজনকে আটক করতে সক্ষম হলেও অন্যরা পালিয়ে যায়।’
ওসি বলেন, ‘পরে বসত ঘরটি তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া যায়- দেশিয় তৈরি একটি বন্দুক, ৯টি গুলি, পাঁচটি গুলির খালি খোসা, তিনটি কিরিচ, একটি গ্রান্ডিং মেশিন, একটি চাইনিজ কুড়াল, ৯টি চকলেট বোমা, পাঁচটি অস্ত্র তৈরির কাগজের নকশা, একটি লোহার রড, একটি লোহার হ্যান্ডেল, একটি লোহার রড, একটি এসএস পাইপ, একটি লোহার কোরবারী, একটি স্লাইস রেঞ্জ, একটি প্লায়ার্স, একটি কাটিং প্লাস, একটি স্ক্রু ড্রাইভার, দুটি কম্বিনেশন রেঞ্জ, আরি ব্লেড (ফ্রেম সহ), একটি লোহার কাঁচি, একটি রেত, একটি লোহার ছুরি, একটি লোহার বাটাল, একটি স্টিলের এল আকৃতির স্কেল, একটি প্লাস্টিকের টুল বক্স, ৮৫টি শিশা, একটি নীল রংঙের ইন্সি টেপ ও দুটি হাতুড়ি।’
আটকদের মধ্য আমির হোসেন ওরফে কালাবাঁশি চিহ্নিত ডাকাত বালে জানান মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সে নিজের নামে গ্রুপ তৈরি করে এলাকায় নানা অপরাধ করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ নানা অভিযোগে ছয়টির বেশি মামলা রয়েছে। এছাড়া অন্যদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে থানায় মামলা করা হয়েছে।’