জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলেন, তাদের উদ্দেশে ছাত্রদল নেতা শহীদ ওয়াসিম আকরামের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
শনিবার (০৩ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজারের পেকুয়ায় জুলাই অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেন এবং পরে শহীদ ওয়াসিমের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
এসময় রাশেদ খান বলেছেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার একই দিনে চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামও শহীদ হন। ওয়াসিমের কবর জিয়ারত শেষে তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে এসব কথা বলেন রাশেদ খান।
রাশেদ খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলেন, তাদের জন্য ওয়াসিম আকরামের আত্মত্যাগই একটি উত্তর। ১৬ জুলাই শহীদ হওয়া ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করতে পেরে এবং তার বাবার পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পেরে নিজের কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির রাজনৈতিক সমন্বয়ের প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খান বলেন, তৎকালীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অনুরোধ করেছিলেন। পরে তারেক রহমানের নির্দেশনায় সালাহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
রাশেদ খান বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে ২০২৪ সালের আন্দোলনকে শুধু কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলনে রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তিনি অনুভব করেছিলেন। সে সময় ছাত্ররা রাজপথে আন্দোলন করলেও রাজনৈতিক দলগুলো পেছন থেকে আন্দোলন সফল করতে সমন্বয়ের কাজ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের হত্যার বিচার হবে বলেও আশ্বাস দেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরামসহ যারা আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, তাদের হত্যার বিচার বাংলার মাটিতে হবে।
জুলাইয়ে শহীদের সংখ্যা নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে শহীদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শহীদ পরিবারের পাশে থাকার কথা জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তাদের খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে তাদের কবর জিয়ারতসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
এসময় শহীদ ওয়াসিমের পিতা মাতাসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় আন্দোলন চলাকালে ওয়াসিম আকরাম নিহত হন। তিনি চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতা ছিলেন। তার বাড়ি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা এলাকায়।