পরিবেশ রক্ষায় নাগরিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী, যুব সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব নগর ও পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্ট সংলগ্ন হোটেল জলতরঙ্গের সামনে সমুদ্র সৈকতে ইপসা ও কক্সবাজারে কর্মরত বিভিন্ন যুব সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বীচ ক্লিনিং ক্যাম্পেইন প্রোগ্রামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, কক্সবাজার বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত হিসেবে আমাদের গর্ব। এই সমুদ্র সৈকতকে পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন রাখা সকল নাগরিকের দায়িত্ব। সে লক্ষ্য অর্জনে সৈকত এলাকায় প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমিয়ে আনতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নাগরিক হিসেবে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন একটি ‘গ্রিন, হেলদি অ্যান্ড সেফার সিটি’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা ও প্লাস্টিক দূষণ কমাতে যুবসমাজকে আরও বেশি উদ্যোগী হতে হবে।
ইপসা’র উদ্যোগে আয়োজিত ও পরিচালিত এই বীচ ক্লিনিং ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সমুদ্র সৈকতে প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই পর্যটনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান লায়ন মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান এবং ইপসা’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড. মো. আরিফুর রহমান।
বক্তারা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে প্লাস্টিক ও দূষণমুক্ত রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি সকল পর্যটন কেন্দ্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান। তারা ট্যুরিস্ট পুলিশের ইতিবাচক ভূমিকা, দায়িত্বশীল পর্যটন শিল্প এবং সমুদ্র সৈকতে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকার মাধ্যমে জনসচেতনতা আরও বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।
বীচ ক্লিনিং কার্যক্রমে কক্সবাজারের ১২টি যুব সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় যুব প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সম্মিলিত উদ্যোগে সমুদ্র সৈকত এলাকা থেকে প্রায় ২৫০ কেজি প্লাস্টিক ও অন্যান্য কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়, যা পরবর্তীতে পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের সহযোগিতায় ইপসা’র উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কক্সবাজারের বিভিন্ন যুব সংগঠনের পাশাপাশি ১২০ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল)-এর সহযোগিতায় ইপসা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে প্লাস্টিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট (পিডাব্লিউএম) প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এছাড়া পিকেএসএফ-এর সহযোগিতায় স্মার্ট প্রকল্প এবং ইউএনডিপি’র সহায়তায় প্লাস্টিক সার্কুলারিটি প্রকল্পসহ প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন ও পরিকল্পনাধীন রয়েছে।