মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত মিস জুলি বিশপ গতকাল কক্সবাজারের উখিয়ায় ২০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থিত পালস্-এর সাবান উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকায়ন এবং আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক এই উদ্যোগের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিস ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনিয়াক, বাংলাদেশে UNHCR-এর ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি মিস জুলিয়েট মুরেকেইসোনি এবং মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের কার্যালয়ের রাজনৈতিক বিষয়ক কর্মকর্তা মি. ডানকান উইলসন ও সহযোগী জনতথ্য কর্মকর্তা মিস পিয়া থেট চায়েল।
পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধি দল সাবান উৎপাদন প্রক্রিয়া সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং উৎপাদন কার্যক্রম, ব্যবস্থাপনা ও এই উদ্যোগের মাধ্যমে সৃষ্ট জীবিকার সুযোগ সম্পর্কে অবহিত হন। PHALS-এর নির্বাহী পরিচালক আবু মোরশেদ চৌধুরী এবং উৎপাদন কেন্দ্রের রসায়নবিদ প্রতিনিধি দলকে সাবান তৈরির প্রক্রিয়া ও কেন্দ্রের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM)-এর সহায়তায় এবং যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (FCDO) অর্থায়নে PHALS-এর অংশীদারত্বে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে আত্মনির্ভরশীলতা, মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন, স্বাস্থ্যবিধি চর্চা এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার করা।
এই সাবান উৎপাদন কেন্দ্রটি দেখিয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত উৎপাদনব্যবস্থা কীভাবে জরুরি মানবিক চাহিদা পূরণে অবদান রাখার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
পরিদর্শনটি রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই জীবিকায়ন কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে। একই সঙ্গে এটি বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি এবং কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক ও সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগের তাৎপর্য তুলে ধরে।