চাঁদাবাজি, জায়গা-জমি দখল, ভয়ভীতি, ভিন্ন রাজনৈতিক মতের ওপর নিপীড়ন যেই করুক না কেন, সাথে সাথে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে সোপর্দ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উখিয়া টেকনাফ -৪ আসনের পাঁচ বারের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অপরাধী সে যে দলেরই হোক, যত প্রভাবশালীই হোক, এমনকি আমার নিকটাত্মীয় হলেও বিন্দুমাত্র ছাড় নয়, জিরো টলারেন্স। উখিয়া-টেকনাফ হবে ন্যায়, শান্তি ও সহাবস্থানের।
অন্যদিকে কক্সবাজার -৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল তার ভেরিফায়েড পেজে লিখেছেন, ইয়াবা ব্যবসায়ী, অপহরণকারী, মানব পাচারকারীদের গড ফাদার সহ তালিকা করে গ্রেফতার করুন। এদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিয়ে সামাজিক ভাবে প্রতিরোধ করুন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এভাবেই একের পর এক হুঁশিয়ারি বার্তা দিচ্ছেন লুৎফর রহমান কাজল। অপরাধীদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, অপরাধী যে দলেরই হোক, অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে। আমার নির্বাচনী এলাকায় অপরাধীদের স্থান হবে না। এর আগের দিন রবিবার তিনি লেখেন, অবৈধ বালুর বা মাটির ব্যবসা বন্ধ করুন। ভুক্তভোগী এলাকা বাসী ক্ষতিগ্রস্ত হলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিন। বালু খেকোদের রুখতে, সামাজিক সচেতনতা কাম্য। গত শনিবার তিনি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, তার নির্বাচনী এলাকায় কেউ চাঁদাবাজি করলে ধরে পুলিশকে দিতে এবং সাহসিকতার জন্য পুরস্কার দেওয়া হবে।
অপরাধীদের বিরুদ্ধে এসব ম্যাসেজ সাধারণ জনগণ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, কথা আর কাজের মিল থাকলে অপরাধ কমে আসবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং জনমনে স্বস্তি ফিরে আসবে।
সূত্র বলছে, গত ৫ আগস্টের পরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, সরকারি জমি দখল, হোটেল মোটেল জোনে চাঁদাবাজি, ছিনতাই অনেকগুণ বেড়ে গিয়েছিল। খুন-খারাবির মত ঘটনা ঘটলেও সময় মত পুলিশ যায়নি। প্রশাসনের নমনীয়তাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধরা হয়ে উঠেছিল আর-ও বেপরোয়া। গত বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী ১৩ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি ভূমিধস জয় পায়। দলের প্রেসিডেন্ট ও আগামীর প্রধানমন্ত্রী খোদ তারেক রহমানও বক্তৃতায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন। তাকে অনুসরণ করে দলের নির্বাচিত এমপিরা নিজ নিজ এলাকার অপরাধ দমনে কঠোর হয়েছেন। এরপর থেকে তালিকাভুক্ত অপরাধীরা অনেকে গা ঢাকা দিয়েছেন। এমপিদের এমন বার্তায় জনমনে স্বস্তি যেমন এসেছে তেমনি অপরাধীদিরাও রয়েছেন আতঙ্কে।
কক্সবাজার ৪ আসনের এমপি শাহজাহান চৌধুরী ও ৩ আসনের এমপি লুৎফর রহমান কাজলের সতর্ক বার্তা জেলাজুড়ে নানাভাবে আলোচনা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, এমপিদের কথা ও কাজের মিল থাকলে সাধারণ মানুষ এমপিদের কাজে সহযোগিতা করবেন। অপরাধ ও অপরাধী দেখলেই প্রতিবাদ করবেন। ফেইসবুকের কমেন্ট বক্সে ধন্যবাদ, শুভ কামনা, পাশে আছি, গুড ম্যাসেজসহ নানা কমেন্ট করেছেন অনেকে। এসব কমেন্টের মধ্যে বেশিরভাগই সাহসী পদক্ষেপ বলে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ও তার মিত্ররা পেয়েছে ২১২ আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য পেয়েছে ৭৭ আসন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, স্বতন্ত্ররা পেয়েছে ৭টি আসন।