চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলায় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক প্রধান দুই আসামিকে কক্সবাজারের রামু থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এসআরবি-১৫ (কক্সবাজার) এবং এসআরবি-৭ (চট্টগ্রাম)-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামু উপজেলার মরিচ্চ্যা বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানার ভাইয়ের দিঘীর পাড় অলির হাট মল্লিক পাড়ার বাসিন্দা আদিত্য মল্লিক (২১) এবং উত্তম মল্লিক (৪৪)। তাঁরা পটিয়া থানায় দায়েরকৃত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের মামলার যথাক্রমে ১ নম্বর ও ২ নম্বর আসামি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাধীন যুগির হাট এলাকার একজন স্কুলছাত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ১ নম্বর আসামি আদিত্য মল্লিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে আদিত্য বিভিন্ন প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে যোগাযোগ বজায় রাখে। গত বছরের ৩১ মে বিকেলে ভুক্তভোগীর মা কর্মস্থলে থাকার সুযোগে আদিত্য ও তার সহযোগী যোগসাজশ করে মেয়েটিকে হাটহাজারীর আমান বাজার এলাকার যুগির হাট কলেজ রোডে ডাকেন। শিশুটি সেখানে পৌঁছালে তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক বিয়ে ও ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এসআরবি-১৫ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ঘটনার পর থেকে আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। যৌথ অভিযানের মাধ্যমে তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এসআরবির এ ধরনের আভিযানিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।