স্টাফ রিপোর্টার, টেকনাফ
দিনের আলোয় জেলের ছদ্মবেশে নৌকাযোগে ইয়াবার বিশাল চালান পাচারের চেষ্টা করেছিলেন চোরাকারবারিরা। বাইরে থেকে নৌকাটি ছিল সাধারণ জেলেদের নৌকার মতো। ভেতরে তল্লাশি চালিয়েও প্রথমে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। তবে নৌকার নিচে পানিতে দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ভাসছিল কয়েকটি বস্তা। সেই বস্তাগুলো খুলতেই বেরিয়ে আসে ১৪ লাখ পিস ইয়াবা।
টেকনাফের হ্নীলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সুইচ গেইট সংলগ্ন এলাকায় গতকাল বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ অভিযান চালায় ৬৪ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় দুইজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন, হ্নীলা ইউনিয়নের ফুলের ডেইল গ্রামের জয়ঘর দাস (৫০) ও মো. হোসাইন (২০)। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪২ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবি সূত্র জানায়, গত দুই সপ্তাহ ধরে একটি বড় ইয়াবার চালান বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়। ড্রোন ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি জোরদার করা হয় টহল কার্যক্রম। এরই মধ্যে বুধবার দিনের বেলায় জেলের ছদ্মবেশে একটি নৌকা নিয়ে সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে পাচারকারীরা। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় আগে থেকে কৌশলগত অবস্থানে থাকা বিজিবির বিশেষ টহল দল নৌকাটিকে চ্যালেঞ্জ করে। পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা দুইজনকে আটক করে। পরে নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদক না পেলেও নৌকার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পানিতে হালকা ভাসমান কয়েকটি বস্তা দেখতে পান সদস্যরা। পরে বস্তাগুলো উদ্ধার করে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো নীল রঙের ১৪০ কার্টন থেকে ১৪ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির ভাষ্য, রাতের অন্ধকারে পাচারে সুবিধা করতে না পেরে চোরাকারবারিরা এবার দিনের আলোকে বেছে নেয়। জেলের ছদ্মবেশ এবং পানির নিচে নৌকার সঙ্গে ইয়াবার বস্তা বেঁধে রাখার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এর আগে গত ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর হ্নীলার অবরাং এলাকা দিয়ে পৃথকভাবে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা করা হলে বিজিবি প্রযুক্তির সহায়তায় দুই আসামিসহ তিন লাখ পিস ইয়াবা আটক করে।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, বিজিবির মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত এলাকায় নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চোরাচালান শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
এদিকে বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এক কোটি ৪৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার এবং ২৪৩ জন আসামিকে আটক করেছে।