আসন্ন বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীন বাজার থেকে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। সরকার ধান ৩৬ টাকা, আতপ ৪৮ টাকা এবং সিদ্ধ ৪৯ টাকা নির্ধারণ করেছে। গত ৩ মে থেকে শুরু হওয়া সংগ্রহ কার্যক্রম আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। কক্সবাজার জেলা থেকে এবার বোরো মৌসুমে ১৩ হাজার ৩০৩ মেট্রিক টন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জেলা খাদ্য বিভাগ। এরমধ্যে ধান ৫ হাজার ৪০৬ টন, সিদ্ধ ৪ হাজার ১৬০ টন এবং আতপ ৩ হাজার ৭৩৭ মেট্রিক টন।
জেলা খাদ্য দপ্তর থেকে প্রেরিত তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৯ উপজেলা থেকে ধান ৫ হাজার ৪৬ টনের বিপরীতে সংগ্রহ ৪ হাজার ২২৯ টন, আতপ ৩ হাজার ৭৩৭ টনের বিপরীতে সংগ্রহ ৩ হাজার ৪৬৭ টন
এবং সিদ্ধ ৪ হাজার ১৬০ টনের বিপরীতে সংগ্রহ ২ হাজার ১০ মেট্রিক টন সংগ্রহের তথ্য দিয়েছেন দপ্তরটি।
দপ্তরটি আরও জানিয়েছে, চলতি বোরো মৌসুমে ৭৬ জন চালকল মালিক চাল দেওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে সিদ্ধ চালের সাথে ১ জন এবং আতপ চালের সাথে ৭৫ জন চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। জেলায় সদর উপজেলার লিংক রোডে একটি মাত্র সিদ্ধ চালের মিল রয়েছে। এই মিলের সাথে খাদ্য দপ্তরের ৪ হাজার ১৬০ টন চাল দেওয়ার ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে এবং এই মিল থেকে ২ হাজার ১০ টন সিদ্ধ চাল এ পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। অন্যদিকে জেলার ৭৫ টি মিল মালিকের সাথে ৩ হাজার ৭৩৭ টন চাল দেওয়ার চুক্তি হয়েছে খাদ্য বিভাগের। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৬৭ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে।
জেলা মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল আকতার জানান, জেলায় ৭৬ টি চালকল মালিকের সাথে সরকারের ৭ হাজার ৫৯৭ টন চাল দেওয়ার চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। জেলায় সিদ্ধ চালের চাহিদা না থাকায় সংগ্রহে প্রতিবার ঘাটতি থাকে। এবার ৪ হাজার ১৬০ টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২ হাজার ১০ টন সিদ্ধ চাল গুদামে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ধান সংগ্রহে সরকারকে প্রতিবার হুঁচট খেতে হয়। কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, খোলা বাজারে ধানের দাম বেশি থাকা, আর্দ্রতা পরীক্ষা নিয়ে কড়াকড়ি, বস্তা সংকট ও সময়মতো পরিবহন করতে না পারায় ঘাটতি দেখা দেয়। অনেক সময় দেখা যায়, খোলা বাজারে খাদ্য বিভাগের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম পাওয়ার কারনে ব্যবসায়ীদের কাছে ধান বিক্রি করে দেন কৃষকরা। এতে করে খাদ্য বিভাগের দেওয়া লক্ষ্যমাত্রায় প্রতিবারই ঘাটতি দেখা দেয়।
এছাড়া গুদামের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত কড়াকড়ির অভিযোগের কারণে, সাধারণ কৃষকরা সরাসরি গুদামে ধান বিক্রির চেয়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করাকে সহজ মনে করেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষক যেটুকু ধান বিক্রি করেন, তা সাধারণত কাটার পরপরই করে দেন। অনেকে আবার ফসলের মাঠ থেকে ধান বিক্রি করে দেন। এ অবস্থায় দ্রুত ধান কিনতে না পারলে সেটা পাইকার বা অন্যান্য মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীর হাতে চলে যায়। এর ফলে প্রায়ই সরকারি ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হয়।
কয়েকজন বোরো ধান চাষির সাথে কথা বলে জানা গেছে, শুকনো ধান বাড়ি থেকে ১১৫০-১২০০ টাকা মণ দরে কিনছেন ব্যবসায়ীরা। গুদামে ধান দিতে হলে ভালো মতো শুকিয়ে ঝেড়ে দিতে হয়। এতে প্রতি মণে ৪-৫ কেজি কমে যায়। এছাড়া গুদামে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া লাগে। বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করাই লাভজনক।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: আবু কাউসার দৈনিক কক্সবাজারকে বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে ধান ও চালের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, ১৩ হাজার ৩০৩ টন। এ পর্যন্ত ধান ৪ হাজার ২২৯ টন এবং চাল ৫ হাজার ৪৬৭ মেট্রিক টন সংগ্রহ হয়েছে। আগস্ট মাস পর্যন্ত সময় আছে, এই সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা ছুঁয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বোরো মৌসুমে আবাদি জমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫৫ হাজার ৭০০ হেক্টর। চালের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ৭৫২ মেট্রিক টন।