শ্রমিকের মজুরি, সার, কীটনাশক, ডিজেলসহ যাবতীয় জিনিসপত্রর দাম বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা মাথায় নিয়ে চলতি বোরো মৌসুম শুরু করেছেন কৃষকরা। বিঘাপ্রতি ৫/৬ হাজার টাকা লোকসানের ঝুঁকি রয়েছে কৃষকদের। তারপরেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরোর বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে ২ হাজার ৭৮৫ হেক্টর বীজতলা তৈরি করেছিল কৃষকরা। চলতি বোরো মৌসুমে আবাদি জমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ হাজার ৭০০ হেক্টর। গেলো বছর ছিল ৫৫ হাজার ৬৯০ হেক্টর। হাইব্রিড, উফসী ও স্থানীয় জাতের ফলন আশা করা হচ্ছে, গড়ে ৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। যা গত বছর ছিল ৪ দশমিক ২২ শতাংশ। চাল উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৭৫২ মেট্রিক টন। গত বছর ছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৫ মেট্রিক টন
চলতি বোরো মৌসুমে হাইব্রিড, উফশী ও স্থানীয় তিন জাতের ধানের আবাদ করেছেন কৃষকরা। তারমধ্য, চকরিয়া ১৭ হাজার ৬৯০ হেক্টর, যেখান থেকে চাল উৎপাদন হবে, ৯৬ হাজার ৯৭ টন। পেকুয়া ৭ হাজার ৩৬০ হেক্টর, যেখান থেকে চাল উৎপাদন হবে, ৩১ হাজার ৫৮০ টন। রামু ৬ হাজার ৬৪০ হেক্টর, যেখান থেকে চাল উৎপাদন হবে, ২৭ হাজার ৩২৪ টন। সদর ৩ হাজার ৮৬৭ হেক্টর, চাল উৎপাদন হবে, ১৬ হাজার ৪২৪ টন। ঈঁদগাও ৩ হাজার ৪৬ হেক্টর, যেখান থেকে চাল উৎপাদন হবে, ১২ হাজার ৫৬৮ টন। উখিয়া ৬ হাজার ৪৭৫ হেক্টর, চাল উৎপাদন হবে, ২৬ হাজার ৪৩৭ টন। টেকনাফ ১ হাজার ৮০০ হেক্টর, চাল উৎপাদন হবে, ৭ হাজার ৫০২ টন। মহেশখালী ৭ হাজার ৩০ হেক্টর, চাল উৎপাদন হবে, ৩০ হাজার ৪২৮ হেক্টর এবং কুতুবদিয়া ১ হাজার ৭৯০ হেক্টর, চাল উৎপাদন হবে, ৭ হাজার ৩৯২ টন।
এদিকে ধান চাষে নানাভাবে ব্যয়বৃদ্ধির পাশাপাশি হঠাৎ করে ডিজেল, সার, কীটনাশকের দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষকরা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। কৃষকরা জানান, মজুরি, ডিজেল, সার, কীটনাশকের দাম অনেক বেশি। একারণে চলতি বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদন নিয়ে শংঙ্কা যেন কাটছেনা তাদের।
এছাড়া রয়েছে ক্ষেত পরিচর্যায় সার, কীটনাশক, ফসল কাটা, মাড়াই খরচ। সব মিলিয়ে এবার এক বিঘা বোরো চাষে খরচ বেড়েছে দ্বিগুণ। সেচ খরচ বাবদ সরকার প্রতি বছর কিছু ভর্তুকি টাকা দিলেও তাতে ব্যয়ের বহরে খুব বেশি হেরফের হয় না। ভর্তুকি ঠিকমতো পেলে বিঘায় ১৫০০-২০০০ টাকার মতো সাশ্রয় হয় বলে জানান কৃষকেরা।
সদর উপজেলা খরুলিয়া এলাকার রশিদ আহমেদ জানান, ৪০ শতক জায়গা ৬ হাজার টাকা দিয়ে অগ্রিম নিয়েছি। পানির সেচ দিতে ৩ হাজার, শ্রমিক খরচ ৩ হাজার ছাড়াও মেশিন ভাড়া, কীটনাশক, ইউরিয়াসহ যাবতীয় খরচ বাবদ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। চলতি মৌসুমে তিনি ৫ একর জমিতে ধানসহ বিভিন্ন প্রজাতির সবজি আবাদ করেছেন। খরচ সামলাতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।
চকরিয়ার ফাইস্যা খালি এলাকার মাবিয়া খাতুন বাড়ির কৃষক জামাল বলেন, এক সময় বোরো মৌসুমে এক বিঘা জমি রোয়ার (রোপন) কাজে খরচ ছিল ৫/৬ হাজার টাকা। এখন ১৫ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে।
এরপরেও কৃষকরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরোধান আবাদ ভালো হয়েছে। আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ধান মাড়াই করে ধান ঘরে তুলতে পারবেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল কুমার দৈনিক কক্সবাজারকে বলেছেন, বরাবরের মতোই চকরিয়াতে সবচেয়ে বেশি আবাদ করেছেন কৃষকরা। সবজি ফলনের বেলায়ও চকরিয়া এগিয়ে থাকে। এবারের বোরোধানের আবাদ সব উপজেলায় ভালো হয়েছে। আমরা আশা করছি, গেলো কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙে যাবের এবারের বোরো আবাদে। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে আবাদ যেমন বেড়েছে তেমনি চাল উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৭৫২ মেট্রিক টন। আশা করা হচ্ছে বোরোর বাম্পার ফলন হবে।