টেকনাফ উপজেলাকে প্রাথমিকভাবে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) টেকনাফ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক গণসমাবেশে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম বন্ধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এ গণসমাবেশে সহযোগিতা করে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, বিজিএসসহ ১৮টি বেসরকারি, আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা এবং ইউনিয়ন পরিষদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী।
বক্তারা বলেন, টেকনাফকে চূড়ান্তভাবে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত করতে হলে উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ের প্রতিরোধ কমিটিগুলোকে আরও সক্রিয় করতে হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিতে থাকা শিশু ও তাদের পরিবারের জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তাঁরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা বৃক্ষরোপণ ও বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কক্সবাজার এরিয়া কো-অর্ডিনেশন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার রোনাল্ড প্রবীর চিসিক।
তিনি বলেন, ২০১৯ সাল থেকে টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, স্থানীয় সরকার, বেসরকারি সংস্থা, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, যুব ও শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম প্রতিরোধে কাজ করছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমের বর্তমান ও পূর্ববর্তী পরিস্থিতি, প্রতিরোধে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের চাইল্ড সেইফটি নেটওয়ার্কের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর ছোটন বড়ুয়া।
সমাবেশে জানানো হয়, ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের পরিবারের জন্য সুদমুক্ত ঋণ, আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ ও নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া ঠেকাতে মেয়েশিশুদের মাসিক বৃত্তি, আত্মবিশ্বাস ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে স্কুলভিত্তিক মার্শাল আর্ট এবং জীবনদক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা এবং বিভিন্ন মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, শিশু, যুব, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির সার্বিক সমন্বয় করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের টেকনাফ এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের ম্যানেজার প্রনয় এস পালমা।
পরে চলতি বছর টেকনাফ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থী ও ‘নতুন কুঁড়ি’ বিজয়ীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। প্রধান অতিথি তাদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন।