চকরিয়ায় বাড়ির উঠানে দোলনায় খেলতে গিয়ে ওড়না গলায় পেঁচিয়ে আকরিদা জন্নাত আইরিন (১০) নামের এক কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গয়ালমারা তেইল্যারবিল এলাকায় হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত আকরিদা জন্নাত স্থানীয় গয়ালমারা ইবতেদায়ী দাখিল মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। সে প্রবাসী জিয়া উদ্দিন ও জেসমিন আক্তার দম্পতির মেয়ে। পরিবারের স্বপ্ন ছিল মেয়েটিকে লেখাপড়া করিয়ে বড় মানুষ বানানোর। কিন্তু একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই নিভে গেল সেই স্বপ্নের প্রদীপ।
পরিবারের সদস্য জানায়, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালেও আকরিদা জন্নাত মাদ্রাসায় যায়। মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফিরে বাড়ির দক্ষিণ পাশের উঠানে দোলনায় খেলছিল। এ সময় দোলনার উপরে থাকা একটি ওড়না অসাবধানতাবশত তার গলায় পেঁচিয়ে যায়। এতে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়ে শিশুটি। তার সঙ্গে থাকা ভাশুরের মেয়ে মুক্তা জন্নাত (৯) বিষয়টি দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হারবাং আজিজনগর ১ম গেইট এলাকায় অবস্থিত আজিজনগর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ। মেয়ের নিথর দেহ দেখে মা জেসমিন আক্তারের আর্তনাদ উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রবাসে থাকা বাবা জিয়া উদ্দিনের কাছেও খবর পৌঁছালে তিনিও গভীর শোকে ভেঙে পড়েন।
স্থানীয়রা জানান, আইরিন অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের একটি মেয়ে ছিল। পড়ালেখায় মনোযোগী এই শিশুটি সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলত। তার এমন অকাল মৃত্যু কেউ সহজে মেনে নিতে পারছেন না।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হারবাং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শফিউল আলম। তিনি বলেন, এটি একটি দুঃখজনক ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
এ বিষয়ে হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, দোলনায় খেলতে গিয়ে ওড়না পেঁচিয়ে শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে ফাঁড়ি পুলিশের এসআই মোফাজ্জল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন। শিশুটির পরিবারের দাবি এটি একটি দুর্ঘটনা। তাই থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।