ঈদুল আজহা তথা কোরবানির ঈদ সমাগত। কোরবানি ঈদের প্রধান কাজ সামর্থ অনুযায়ী পশু কোরবানি দেয়া। আজ ১৮ মে চাঁদ দেখা গেলে চূড়ান্ত হবে ঈদুল আজহার দিন। কক্সবাজারে এবারের ঈদে সাপ্তাহিক হাটসহ ছোট-বড় শতাধিক কোরবানির পশুর হাট বসতে যাচ্ছে বলে জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখাসূত্রে জানা গেছে।
কক্সবাজার সদর ও টেকনাফের কোরবানির বাজারের পরিসংখ্যান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে না পৌছায় প্রকৃত বাজার কয়টি বসছে তার সঠিক সংখ্যা এখনো ঠিক করতে পারেনি জেলা প্রশাসন।
তবে এবার গত বছরের চেয়ে ৪ টি অস্থায়ী বাজার বাড়বে বলে জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখাসূত্রে জানা গেছে । ওই ৪টি বাজার বৃদ্ধি পেলে তা মোট ৯৮ টি বাজার হবে। ফলে এবার স্থায়ী হাট বসবে ৪৮ টি এবং ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৫০টি। বাজারে ক্রেতা বিক্রেতা ও সর্বসাধারণের নিরাপত্তা বিবেচনায় এবার ৩ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করেছে প্রশাসন। সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনে গতকাল ১৭ মে দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন করেছেন জেলা প্রশাসক মো: আ: মান্নান।
তিনি জানান- বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, বাজারের নিরাপত্তা, ক্রেতা বিক্রেতার সার্বিক বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
বাজারে সকল ধরনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের বিশেষ টিম, সাজা পোশাকের টিম, হাইওয়ে পুলিশের টিম, জাল টাকা সনাক্তকরণে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তার নেতৃত্বে জাল টাকা সনাক্তকরণ মেশিন, পশুর চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক থাকবে। শহরের প্রধান ঈদের জামাতের জন্য ঈদগাহ ময়দান যথাযথভাবে প্রস্তুতি, কোরবানির পশুর চাপড়া সংরক্ষণে সরকারি ভাবে লবণ বরাদ্দ এব সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়াও সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে যেন বাজার বসানো না হয়, যদি বসানোর প্রয়োজন পড়ে তাহলে ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদারের তাগিদ দেয়া হয়।
প্রস্তুতি সভায় জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপ পরিচালক, পৌর প্রশাসক মো: শামিম আল ইমরান,, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ট্রাফিক) দেবদূত মজুমদার, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কোরবানের বাজারে নিরাপত্তা ও সার্বিক বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন- কোরবানের পশুর হাটের নানা বিষয় নিয়ে প্রস্তুতির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হবে। তারা নিয়ম অনুয়ায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতাদের র্নিবিঘ্নের জন্য প্রতিটি বাজারে নিরাপত্তা জোরদারের ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সর্বসাধারণ যাতে নির্বিঘ্নে পশু ক্রয় বিক্রয় করতে পারে সে ব্যাপারে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রতিটি বাজারে ১টি করে পুলিশের মোবাইল টিম কাজ করবে পাশাপাশি সাদা পোশাকে ও বিশেষ পুলিশ সদস্যরা আলাদাভাবে মোতায়েন থাকবে।
জানাযায়, এ বছর কক্সবাজার জেলায় ৯৮টি পশুর হাট বসছে। এরমধ্যে স্থায়ী বাজার ৪৮ টি, কোরবান উপলক্ষে ৫০টি। উপজেলা ভিত্তিক অনুমোদিত বাজারের সংখ্যা হলো সদরে ১৪টি, রামুতে ১৪টি, চকরিয়ায় ২২টি, পেকুয়ায় ৮টি, উখিয়ায় ৮টি, টেকনাফে ৯টি, মহেশখালীতে ৬টি, কুতুবদিয়ায় ৬টি রয়েছে। তবে বেসরকারি হিসাবে বাজারের সংখ্যা শতাধিক বলে জানা গেছে।
এদিকে সদরে ১৪টি কোরবানের পশুর হাট ইজারা হলেও প্রাণী সম্পদ অফিসের তথ্যমতে পশুর হাট বসছে ৭টি।
ইতোমধ্যে অধিকাংশ বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে। অনেক বাজারে মিয়ানমারের গরু মহিষ আসতে দেখা গেছে। গতকাল রবিবার খরুলিয়া বাজারে গরু বিক্রি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ইজারাদার । এদিন নিয়মিত হাটবারের পাশাপাশি কোরবানের পশুর হাট বসে। খরুলিয়া বাজারে সহস্রাধিক গরু মহিষ মজুদ রয়েছে। গতবছর গরুর সারি প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত সড়কজুড়ে ছিল। এ বছর প্রচুর গরু বাজারে সরবরাহ থাকলেও মাঝারি মানের গরুর দাম বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জেলার বৃহত্তর কোরবানির বাজার খরুলিয়া এবছর ইজারা হয়েছে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকায়। বাজারের পরিবেশ উন্নত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইজারাদার আবদুল্লাহ আল কাফি।
এদিকে আগামী সপ্তাহে গরু বিক্রি বাড়তে পারে সদরের ঈদগাঁও বাজার, পিএমখালীর জুমছড়ি বাজার, রামুর কলঘর বাজার, মিঠাছড়ির কাটির রাস্তা বাজার, গর্জনিয়া বাজার, উখিয়ার রুমখাঁ বাজারসহ প্রায় সবকটি বাজারে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন বাজারে দেশীয় প্রচুর গরু মজুদ করেছে বিক্রেতারা। হাটগুলোতে ক্রেতা সাধারণের জন্য নতুন করে সাজানো হয়েছে।