তেলের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে মহেশখালী - কক্সবাজার ঘাটে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে এমন অভিযোগ যাত্রীদের। তবে এর বিপরীত মন্তব্য করেছেন স্পিডবোট মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, প্রতিনিয়ত স্পিডবোট মালিকরা লোকসান দিয়ে চলেছেন ব্যবসায়।
জানা গেছে, তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেই শুরু হয় বিভিন্ন ঘাটে যাত্রী এবং স্পিড বোট ও ট্রলার মালিকদের সাথে তর্ক বিতর্ক। সরকার নির্ধারণ করার আগেই অনেক স্পিডবোট ও ট্রলার মালিক নিজেদের ইচ্ছা মতো ভাড়া আদায় করে থাকেন।
কক্সবাজার জেলায় বেশি সংখ্যক যাত্রী পারাপার হয় কক্সবাজার- মহেশখালী ঘাট দিয়ে। যাত্রী পারাপারের জন্য রয়েছে ১৫৬টি স্পিডবোট ও দুই ডজনের অধিক অন্যান্য ট্রলার। এছাড়াও রয়েছে একটি সী-ট্রাক।
মহেশখালী যুবসমাজের অন্যতম প্রতিনিধি মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেছেন কোন ঘোষণা ছাড়াই ৯০ টাকার স্থলে ১২০ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে স্পিডবোটে। বিভিন্ন পর্যটক থেকে আরো বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। শুধুমাত্র স্পিডবোট ও টলার মালিক পক্ষের কারণে ঘাটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। বাড়তি টাকা না দিলে যাত্রীদের হয়রানি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে মান-সম্মানেরও ক্ষতি করা হয়। এই বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আশা দরকার। বছরের পর বছর মহেশখালীর মানুষ এই ঘাটে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন। নির্বাচন আসলে সবাই এই বিষয়টি সুরাহা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পরে বেমালুম ভুলে যান যার। ফলে এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। আশা করি মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি দ্রুত সমাধান করবেন যাত্রীদের স্বার্থে।
কক্সবাজার স্পিডবোর্ড মালিক সমিতির সভাপতি দিদারুল ইসলাম বলেছেন, স্পিডবোট মালিকরা প্রতিনিয়ত লোকসান দিয়ে চলছেন। কক্সবাজার থেকে মহেশখালী একটি ট্রিপ দিতে ৮ থেকে ১০ লিটার পর্যন্ত তেল খরচ হয়। কিন্তু ভাড়া আদায় হয় মাত্র এক হাজার টাকা। খরচ বাদ দিলে এক ট্রিপে টাকা পাওয়া যায় ১০০ টাকা পর্যন্ত। যা একেবারেই অপ্রতুল। সারাদিন মিলে যদি চারটি দেওয়া হয় তাহলে খরচ বাদ দিয়ে টাকা থাকে ৪০০ টাকা। চালকের বেতন দিলে আরো লোকসান থাকে। আমরা চাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ তদন্ত করে যাতে স্পিড বোট মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেই বিষয়টি বিবেচনা করে ভাড়া নির্ধারণ করলে সব বিতর্কের অবসান হবে। যাত্রীরা বাড়তি সুবিধে চায় মালিকপক্ষ প্রতিদিন লোকসান দিয়ে যাত্রীদের এই সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
মসেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মোঃ ডালিম এর সভাপতিত্বে স্পিডবোট মালিকদের সাথে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়। এতে স্পিডবোট জনপ্রতি ১১০ টাকা ও গাম বোট ৫০ টাকা জনপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়।