পেকুয়া-মগনামা সংযোগস্থলে অবস্থিত সোনালী বাজারের স্লুইসগেটটি (সুইচগেট) সম্প্রতি ভেঙে পড়েছে। এতে গতকাল (১৯ এপ্রিল) রবিবার স্লুইসগেটটি দিয়ে ব্যাপক হারে জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে।
জানা যায়, পেকুয়া উপজেলার কাটাফাঁড়ি ব্রিজ থেকে উজানটিয়া করিমদাদ মিয়ার জেটি ঘাট সড়কের সোনালী বাজার সংলগ্ন ৩৪ নম্বর স্লুইসগেটটি ফের ভেঙে গেছে। এতে পশ্চিম ও দক্ষিণ পেকুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভেঙে যাওয়া স্লুইসগেট দিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় বিস্তীর্ণ এলাকার লবণমাঠ তলিয়ে যাচ্ছে । এতে কৃষকের মজুদ করা কাঁচা লবণ মিঠা পানির সাথে মিশে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় লক্ষ লক্ষ টাকার বারবার ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে চাষিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ীভাবে মেরামতের মাধ্যমে স্লুইসগেটটি সচল রাখা হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতি বছরই ভাঙন ও প্লাবনের ঝুঁকি বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতার কারণে টেকসই নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
সোনালী বাজারের এই স্লুইসগেটটির ওপর কয়েক হাজার একর লবণ মাঠ ও মৎস্য প্রজেক্ট নির্ভরশীল। মাত্র কয়েক মাস আগে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে এটি মেরামত করা হলেও অল্প দিনের ব্যবধানে সেটি আবার ভেঙে পড়ে। এতে মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নের হাজার হাজার লবণ ও মৎস্যচাষী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্লুইসগেটটি ভেঙে যাওয়ার ফলে স্থানীয় লবণমাঠ তলিয়ে যাচ্ছে। স্লুইসগেটটি বিলীন হওয়ার উপক্রম হওয়ায়, জোয়ারের পানি ঢুকে এলাকার লবণ চাষ এবং ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই স্লুইসগেটটি ভাঙার কারণে স্থানীয় যাতায়াত এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।প্রায় সময় স্লুইসগেটটি মেরামত করলেও অল্প কিছুদিন যেতে না-যেতেই ভেঙ্গে নদী থেকে পানি প্রবেশ করে মানুষের বাড়ি ঘর,ধান চাষ ও লবনের মাঠ তলিয়ে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় চাষিরা। এতে টেকসই স্লুইসগেট করার সরকারের প্রতি দাবী জানান স্থানীয়রা।
এতে বারবার পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ স্লুইসগেটটি কয়েক দফা পরিদর্শন করলেও এখনো টেকসই কোন কাজ করতে দেখা যাচ্ছেনা।