উখিয়ার পাটুয়ারটেকে ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্ট’-এ অগ্নিকাণ্ডের নিহতের ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত দুই পরিবারের ১০ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ঘটনার ১০ দিন পর রিসোর্টটির ধ্বংস স্তুপে তল্লাশি চালিয়ে পুঁড়ে যাওয়া আরও একটি কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। এটি ঘটনায় নিখোঁজ শিক্ষিকা এবং ছাত্রদল নেতার স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার বেলা আড়াই টার দিকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে থাকা ১০ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
যেখানে একটি পরিবারের ছয়জন এবং অন্য পরিবারের চারজন রয়েছে।
একটি পরিবারের চার সদস্য হলেন, ঢাকার শ্যামলীর ‘গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড’-এর কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।
অন্য পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন, মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯); তাঁর কাজিন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫) ও ইসরাত জাহান মালিহা (২৭); তাঁদের আরেক কাজিন ফারিয়া কবির (৩৩); ফারিয়ার ছয় বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)।
তাঁরা ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করতেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়ার পর ১০ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ইতিমধ্যে স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্স যোগে মরদেহ নিয়ে রওয়ানা হয়েছেন।
কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে উখিয়ার পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকতের পাশে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন একটি তিনতলা রিসোর্টে ১৭ অক্টোবর সকালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রিসোর্টটির প্রথম ও দ্বিতীয় তলার আটটি কক্ষে পর্যটকরা অবস্থান করছিলেন, আর নিচতলায় ছিল একটি রেস্তোরাঁ ও কর্মীদের থাকার জায়গা।
কর্তৃপক্ষ শুরুতে রিসোর্ট থেকে ১০টি মৃতদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল। তবে নিখোঁজ তালিকায় ১১ জনের নাম থাকায়, উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের সংখ্যা এবং নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যার মধ্যে গরমিল নিয়ে প্রশ্ন উঠে।
সর্বশেষ ১০ জনের ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর সাভারের আশুলিয়ার ‘স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুল’-এর শিক্ষিকা ছাত্রদল নেতার স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তার নিখোঁজ নিয়ে সংশয় তৈরী হয়।
ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকে রিসোর্টটির ধ্বংস স্তুপে আবারও তল্লাশি শুরু করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। বেলা ৩ টার দিকে ওখানে পাওয়া যায় আরও একটি পুঁড়ে যাওয়া কঙ্কাল।
উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, রিসোর্টটির তিন তলার একটি কক্ষের টয়লেটের কাছে ছাইয়ের স্তুপের নিচে এটি পাওয়া গেছে। এটি নিখোঁজ মুক্তার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মামলায় রিসোর্টের মালিক মোহাম্মদ তানভীর সুলতান মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই তানভীর পলাতক রয়েছেন। রিসোর্টের আরেক মালিক নেওয়াজ মোর্শেদও আত্মগোপনে আছেন বলে জানা গেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কেবল সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহানকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখনও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি।