কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দেশের প্রথম নারী পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্নাকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষে ৩৬ জনের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছে দলটি।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ তথ্য জানিয়েছেন।
রিজভী জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিতে জাতীয় কমিটির সদস্যরা দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন। সাক্ষাৎকার শেষে মনোনয়ন বোর্ড ৩৬ জনকে মনোনীত করেছে।
মনোনয়নপ্রাপ্তরা হলেন, সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।
অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না'র সংক্ষিপ্ত জীবনী :
কক্সবাজার শহরের মধ্যম টেকপাড়ার ঐতিহ্যবাহী পরিবারের মরহুম আবুল খায়ের ও মরহুমা ফাতেমা খাতুনের কন্যা শামীম আরা স্বপ্না ১৯৭৬ সালে কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ১৯৭৮ সালে কৃতিত্বের সালে কক্সবাজার সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৮৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি উদ্ভিদ বিদ্যা নিয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যয়নরত থাকা অবস্থায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর আদর্শের প্রতি অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৮২ সালে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেন। ধাপে ধাপে তিনি বিএনপির মূল ধারার রাজনীতিতে পদার্পন করেন। শামীম আরা স্বপ্না ১৯৮৬ সালের ১৮ মার্চ বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অ্যাডভোকেটশীপ অর্জন করে একজন নবীন আইনজীবী হিসাবে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ লাভ করেন। এ মানবিক আইনজ্ঞ কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি থেকে পেয়েছেন প্রবীণ আইনজীবীর বিরল সম্মাননা।
অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এপিপি (এসিস্ট্যান্ট পাবলিক প্রসিকিউটর) পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দেশের প্রথম মহিলা পিপি হিসাবে নিয়োগ পেয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেন। তখন থেকে ২০০৭ সালের জুলাই পর্যন্ত অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না পিপি পদে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর সহ আরো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের লিগ্যাল এডভাইজার পদে দায়িত্ব পালন করেন। অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না ১৯৯১ সাল থেকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৮ সালে তিনি কক্সবাজার জেলা বিএনপি'র যুগ্ম আহবায়ক মনোনীত হন। ২০০৯ সাল থেকে অধ্যাবদি কক্সবাজার জেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক পদে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে কক্সবাজার জেলায় দলকে সুসংগঠিত করেছেন। তাঁর নেতৃত্বের সফলতায় গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি বিজয় লাভ করেছে। যা তাঁর সাংগঠনিক সক্ষমতার অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন দলের হাইকমান্ড ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আমলে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে কক্সবাজার জেলায় দলের সাংগঠনিক ভিত্তিকে তিনি আরো শক্তিশালী করেছেন। অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্নাকে তিনটি রাজনৈতিক মামলায় জড়িত করে হয়রানি করা হয়েছে। দলের নির্যাতিত নেতা-কর্মী, অসহায়, নিঃস্ব গরীব জনসাধারণের মামলায় অকাতরে আইনী সহায়তা দিয়েছেন সবসময়। বিনা পারিশ্রমিকে আইনী সহায়তা দিয়ে কারাগার থেকে মুক্ত করেছেন মিথ্যা মামলায় জড়ানো অসংখ্য নেতা-কর্মীদের।
অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্নার স্বামী কক্সবাজারের মহেশখালী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ জসিম উদ্দিন দম্পত্তির একমাত্র সন্তান মিনহাজ উদ্দিন মিশুক অষ্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত।