কক্সবাজারের নবীনতম জনপদ পেকুয়াবাসীর দীর্ঘ দুই দশকের লালিত স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা অবশেষে বাস্তবে রূপ নিল। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পৌরসভা’ হিসেবে চূড়ান্ত প্রশাসনিক ও আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে পেকুয়া। রবিবার (১৭ মে) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এক বিশেষ গেজেটের মাধ্যমে পেকুয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পেকুয়ার রূপকার, বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দেওয়া আরও একটি বড় নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়িত হলো।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (পৌর-২ শাখা) থেকে প্রকাশিত এই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর ৪ ধারার উপ-ধারা (২) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার পেকুয়া উপজেলাধীন নির্দিষ্ট এলাকা নিয়ে ‘পেকুয়া পৌরসভা’ প্রতিষ্ঠা করেছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব আশফিকুন নাহার।
সূত্র জানায়, পেকুয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠার এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরপরই তিনি পেকুয়াকে একটি আধুনিক শহরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেন। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি স্থানীয় সরকার সচিবকে একটি আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) প্রদানের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। তাঁর সেই শক্তিশালী তদবির ও নির্দেশনার পর স্থানীয় সরকার বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন দ্রুততম সময়ে জরিপ ও সীমানা নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন করে। এরপর আপত্তি-নিষ্পত্তিসহ সকল আইনি ধাপ পেরিয়ে মে মাসের মাঝামাঝিতেই পূর্ণাঙ্গ গেজেট প্রকাশিত হলো। এ অবস্থায় স্থানীয়রা অত্যন্ত কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছেন যে, ২০০২ সালে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন সালাহউদ্দিন আহমদই বৃহত্তর চকরিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে পেকুয়া উপজেলা গঠন করেছিলেন। এবার তাঁরই হাত ধরে উপজেলা সদরটি পূর্ণাঙ্গ পৌরসভায় উন্নীত হয়ে আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার নতুন যুগে প্রবেশ করল।
গেজেটের তফসিল অনুযায়ী, পেকুয়া উপজেলার ৪নম্বর পেকুয়া ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ দুটি মৌজা নিয়ে এই পৌরসভার সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পেকুয়া মৌজার (জে.এল. নম্বর–০৮) দাগ নং ১–৮৯৫, ১৫০১–৩৪৩৩, ৪০০১–৫১১১, ৭০২০–৭৮৪১, ১০০০১–১০১৭৬, ১১০০১–১১৩০৭ এবং ১২০০১–১২২০৮–এর সকল জমি ও এলাকাকে পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া মেহেরনামা মৌজার (জে.এল. নম্বর–০৭) দাগ নং ১–৪৫৮, ৫১১–৫১৫ এবং ৪০০১–৪০৩৭–এর সকল জমি ও এলাকা নতুন এই পৌরসভার সীমানায় পড়েছে। এর ফলে পেকুয়া সদরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র, কবির আহমদ চৌধুরী বাজার এলাকা এবং ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলো এখন থেকে আধুনিক পৌর সুযোগ-সুবিধার আওতায় চলে এলো।
চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই পুরো পেকুয়ায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক মহলে দেখা যায় অভূতপূর্ব জনউচ্ছ্বাস। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সালাহউদ্দিন আহমদ যে প্রতিশ্রুতি দেন, তা যে কোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করেন- পেকুয়া পৌরসভা তার এক অনন্য উজ্জ্বল উদাহরণ। এই অর্জনের ফলে পেকুয়া সদরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখন নতুন গতি পাবে। পৌর কাঠামোর মাধ্যমে পরিকল্পিত সড়ক নির্মাণ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত সড়কবাতি এবং সুপেয় পানি সরবরাহের মতো নাগরিক সেবাগুলো এখন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে। এছাড়া পার্ক ও খেলাধুলার মাঠসহ পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ে তোলার পথ সুগম হলো।
ফেসবুকে গেজেটের ছবি প্রকাশ করে মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এর প্রেস সচিব মো. ছফওয়ানুল করিম লিখেন- "আলহামদুলিল্লাহ।
১৭ মে ২০২৬ খ্রি. চুড়ান্তভাবে "পেকুয়া পৌরসভা" প্রতিষ্ঠা হয়ে গেজেট প্রকাশিত হল। পেকুয়া পৌরসভার প্রতিষ্ঠাতা জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ মহোদয়ের কাছে পেকুয়াবাসির পক্ষ থেকে অশেষ কৃতজ্ঞতা।"
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পর এখন পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে। খুব শিগগিরই সরকার কর্তৃক একজন পৌর প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে, যাঁর মাধ্যমে পেকুয়া পৌরসভার দাপ্তরিক কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। পরবর্তী ধাপে নির্বাচন কমিশনের সাথে সমন্বয় করে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস ও ভোটার তালিকা হালনাগাদ শেষে প্রথম পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ও কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে যে বিশাল অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য শুরু হয়েছে, পেকুয়া পৌরসভা গঠন সেই সম্ভাবনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং অচিরেই এটি একটি মডেল স্মার্ট শহরে পরিণত হবে।