কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখে দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের নেতৃত্বাধীন ১৪ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। এ সময় মার্কিন প্রতিনিধি দলের সামনে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে দ্রুত স্বদেশে ফেরা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার তহবিল বাড়ানোর দাবি জানান আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে উখিয়ার একাধিক রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের মাধ্যমে মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী এ সরজমিন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। প্রতিনিধি দলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছে প্রতিনিধি দলটি সরাসরি উখিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। দুপুর ২টার দিকে উখিয়ার ৮-ডব্লিউ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছালে রাস্তার দুপাশে শত শত রোহিঙ্গা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাদের স্বাগত জানান এবং মিয়ানমারের রাখাইনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত স্বদেশে ফেরানোর দাবি জানিয়ে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
প্রতিনিধি দলটির দৃষ্টি আকর্ষণ করে ‘ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছৈয়দ উল্লাহ বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হওয়ার কথা প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু আজও আরাকানে নির্যাতন চলায় সেই স্বীকৃতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার নয় বছর পার হয়ে গেলেও কতদিন এভাবে অনিশ্চয়তায় থাকতে হবে? আমরা দ্রুত মর্যাদা, পূর্ণ নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়ে নিজ ভূমিতে ফিরতে চাই।’
পরবর্তীতে প্রতিনিধি দলটি ক্যাম্প-৮ এর ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বিক ক্যাম্প পর্যবেক্ষণ করেন এবং ৬ নম্বর ক্যাম্পে রেড ক্রিসেন্ট (বিডিআরসিএস) পরিচালিত হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম ঘুরে দেখে রোগী ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় রোহিঙ্গা নেতা কামাল অভিযোগ করে বলেন, ‘ক্যাম্পে তীব্র অর্থসংকটের কারণে অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আগে যেখানে প্রতি মাসে জনপ্রতি ১২ ডলার সহায়তা দেয়া হতো, কয়েক বছর ধরে তা কমিয়ে ৭ ডলার করা হয়েছে। স্থায়ী ঠিকানাহীন এই জীবনে সহায়তা আগের মতো বহাল রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
বিকেলে প্রতিনিধি দলটির সদস্যরা উখিয়ার ৪ নম্বর ক্যাম্পে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইএনএইচসিআর)-এর রেজিস্ট্রেশন সেন্টার, এলপিজি গ্যাস বিতরণ কেন্দ্র এবং ৪-এক্সটেনশন নম্বর ক্যাম্পে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শন শেষে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন বিশেষ দূত। বৈঠক শেষে কমিশনার মো. মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ‘আমেরিকান করদাতাদের অর্থ কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তা সশরীরে দেখতেই প্রতিনিধি দলটি এসেছে। তারা সেবামূলক কাজে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং এ সংকটের কারণে বাংলাদেশের ওপর সৃষ্টি হওয়া চাপের বিষয়টি উপলব্ধি করেছেন। একই সঙ্গে মিয়ানমারে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
সার্বিক পরিদর্শন কার্যক্রম শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোরের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলটি ঢাকার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ত্যাগ করে।