সেন্টমার্টিন দ্বীপের মরিচ ক্ষেতে দেওয়া জালে আটকে পড়া মিয়ানমারের অজগরটি অবশেষে টেকনাফ জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়েছে। বনবিভাগ জানিয়েছে, অজগরটির দৈর্ঘ্য ১০ ফুট, ওজন ২০ কেজি ও বয়স ৫-৬ বছর হতে পারে।
শনিবার (০৬ জুন) দুপুরে এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ বনবিভাগের টেকনাফস্থ রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ।
তিনি বলেন, শুক্রবার সেন্টমার্টিন দ্বীপের লোকালয়ের মরিচ ক্ষেতের জালে আটকে পড়া একটি অজগর উদ্ধার করা হয়। পরে সেটি সেন্টমার্টিন থেকে স্পীডবোটযোগে সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফে আনা হয়। তারপর সেটি টেকনাফ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এলাকার গভীর জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, সেন্টমার্টিনে কোন পাহাড় নেই। আর সেন্টমার্টিনের পাশর্^বর্তী এলাকা হচ্ছে মিয়ানমার। সেহেতু অজগরটি মিয়ানমার থেকে এসেছে। সাধারণত দেখা যায়- মিয়ানমার থেকে প্রায় সময় নানা ধরণের কাঠের টুকরো থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরঞ্জাম সেন্টমার্টিন উপকূলে ভেসে আসে। সেহেতু, অজগরটিও হয় তো কোন কাঠের টুকরোতে পেঁচিয়ে সেন্টমার্টিনে এসেছে।
দক্ষিণ বনবিভাগের টেকনাফস্থ রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ আরও বলেন, এই অজগরটি কোন প্রজাপতির সেটি বলতে পারবো না। এরকম অজগর টেকনাফের পাহাড়গুলোতেও রয়েছে। এরচেয়ে বড় অজগরও টেকনাফের বনাঞ্চলে আছে। সুতরাং, অজগরটি নিরাপদে গভীর জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়েছে।
সাবেক সচিব ও সমুদ্র গবেষক সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর বলেন, “সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিন পড়ার এক গৃহস্থের বাড়িতে একটি অজগর জালে আটকা পড়ে। এই দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের তালিকায় কোন কালেই পাইথনের উপস্থিতি ছিলনা। দ্বীপটির য়ে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র তাতে এই দ্বীপটি কোন ভাবেই পাইথনের জন্য উপযুক্ত নয় অন্যদিকে এটি দ্বীপটির পরিবেশে জীবজগতের যে খাদ্যশৃঙ্খল বা ফুডচেইনের জন্য হুমকি স্বরূপ।
এই অজগরটি এই দ্বীপে আসার দু’টি সম্ভাব্য উপায় আছে। সম্ভবত আরাকানের গহীন জঙ্গলে বণ্যার পানিতে ভেসে বঙ্গোপসাগরের এসে পড়ে পরবর্তীতে সাগরের স্রোতের টানে সেন্টমার্টিনে এসে আশ্রয় নেয় এবং খাবারের সন্ধানে গৃহস্থের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। আবার এমনও হতে পারে কেউ হয়তোবা সাপটিকে এনে এখানে ছেড়ে দিয়েছে।”
উল্লেখ্য, সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ অংশের বাসিন্দা মুসা আলী শুক্রবার সকালে নিজের বাড়ির আঙিনায় মরিচ ক্ষেতের জালের মধ্যে অজগরটিকে আটকা অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সাপটিকে উদ্ধার করা হয়। এত বড় অজগর আটকা পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের পাশাপাশি ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়।