কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেছেন, 'বন্যাদূর্গত মানুষের জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি, সামাজিক সংগঠন এবং বিত্তশালীরা এগিয়ে এলেই দূর্গত মানুষের দূর্ভোগ লাঘব হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'সমাজে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের জন্য সব রাজনৈতিক দল, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশিষে সবাইকে মিলমিশে থাকতে হবে। বর্তমানে ইয়াবা ব্যবসা ও সেবন মহামারী আকার ধারন করেছে। একজন ব্যবসায়ি পুরো দেশ ও সমাজকে কলুষিত করে। আবার একজন সেবনকারি একটি পরিবারের সর্বনাশার কারণ। ইয়াবা সেবনকারিরা নিজের পিতা-মাতাকে মারধর করতে দ্বিধা করেনা। ইয়াবা সবখানে সয়লাব হওয়ায় এখন অপরাধ কর্মকান্ডও আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। তাই ইয়াবা ব্যবসায়ি ও সেবনকারিদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলে এদের দৃঢভাবে প্রতিহত করতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকেও মাদকের ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। মাদক সংশ্লিষ্টদের কোনভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না।'
সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকালে রামু উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্য সহায়তা ও নগদ অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
আরডিআরএস বাংলাদেশের বাস্তবায়নে ‘হিউম্যানিটারিয়ান ইমার্জেন্সি রেসপন্স টু ফ্লাড-অ্যাফেক্টেড পিপল ইন সাউথ-ইস্ট বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- আরডিআরএস বাংলাদেশের জরুরি সেবা কর্মসূচির দলনেতা মো. আশরাফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- রামু উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) স্বরূপ মুহুরী, রামু থানার নবাগত ওসি একে ফজলুল হক, রামু উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বশর বাবু, রামু উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দেবেশ চন্দ্র দাশ, উপজেলা প্রকৌশলী কফিল উদ্দিন কবীর, রামু উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. অসীম বরন সেন, রামু প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম আবদুল্লাহ আল মামুন, রামু উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম টিপু, রামু উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনছারুল হক।
প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে ২০০টি বন্যাদুর্গত পরিবারকে জরুরি খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। প্রতিটি পরিবারকে ২৫ কেজি চাল, ৩ কেজি ডাল, ২ লিটার সয়াবিন তেল এবং ২ কেজি লবণ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় যোগ্য নির্বাচিত আরও ৩০০টি বন্যাদুর্গত পরিবারকে প্রতিটি পরিবারে ৮ হাজার টাকা করে শর্তহীন বহুমুখী নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নগদ সহায়তার অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের বিকাশ মোবাইল অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রদান করা হবে।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. নজরুল ইসলাম জানান, উপকারভোগী নির্বাচন প্রকল্পের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও পুনঃযাচাইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের কাছে যথাসময়ে জরুরি, জবাবদিহিমূলক, প্রয়োজনভিত্তিক ও মর্যাদাপূর্ণ মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় নগদ সহায়তা, জরুরি খাদ্য সহায়তা, স্বাস্থ্যবিধি সচেতনতা এবং সুরক্ষা, যৌন শোষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।