টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে একটি বন্য মাদি হাতি গুরুতর আহত হয়েছে। প্রাণীটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যা করা হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় হাতিটিকে আপাতত অন্যত্র স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে টেকনাফ রেঞ্জের সদর বনবিটের শিয়ালঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম ও পিচ্ছিল হয়ে পড়েছিল। এ সময় পাহাড়ে লতাপাতা খাওয়ার সময় ভারসাম্য হারিয়ে হাতিটি প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ ফুট নিচে পড়ে যায়। এতে প্রাণীটির দুই পা ও পেটে গুরুতর আঘাত লাগে। আহত হওয়ার পর সেটি আর দাঁড়াতে পারেনি।
ঘটনাটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন বন বিভাগকে খবর দেন। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিয়ে হাতিটির প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। বর্তমানে বন বিভাগের উদ্যোগে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে হাতিটির চিকিৎসা চলছে।
টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আব্দুর রশীদ বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহত হাতিটির সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও পরিচর্যা করা হচ্ছে। ভেটেরিনারি চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন। কয়েক দিন নিবিড় পরিচর্যা করা গেলে হাতিটি সুস্থ হয়ে উঠতে পারে বলে তাঁরা আশা করছেন।
বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, চিকিৎসকেরা হাতিটির শারীরিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। একই সঙ্গে নিরাপদ পরিবেশে প্রাণীটি যাতে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, পাহাড় থেকে পড়ে হাতিটি গুরুতর আহত হয়েছে। এটি মাটিতে শুয়ে রয়েছে এবং সামান্য নড়াচড়া করতে পারছে। তবে পেছনের দুটি পা নাড়াতে পারছে না। এ ছাড়া পেটেও গুরুতর আঘাত রয়েছে।
ইউএনও আরও বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের একটি দল ঘটনাস্থলে আসছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় হাতিটিকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই ঘটনাস্থলেই সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দিয়ে সুস্থ করার চেষ্টা চলছে। হাতিটি সুস্থ হলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী সেটিকে আবার বনে অবমুক্ত করা হবে। প্রয়োজনে সাফারি পার্কে স্থানান্তরের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।