টেকনাফ পৌরসভার বিভিন্ন সড়কের অংশবিশেষ দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে মাছ তরি-তরকারির হাটবাজার। এতে করে ওই সকল সড়ক ব্যবহারকারী পথচারীদের পাশাপাশি এখানে বেড়াতে আসা পযটকদের নানাধরনের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কিন্তু এবার গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশে খোলা জায়গায় ইটের সলিং বিছিয়ে দিয়ে ব্যবসা করার জন্য সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এতে করে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন গুলো সড়কের উপর পার্কিং ব্যবস্থা করে নিচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন দুই লেনের সড়ক নির্মাণ করলেও ফুটপাতগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত যানজট লেগে রয়েছে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর হাটবাজার ইজারা দিয়ে কোটি টাকা আয় করলেও নিদিষ্ট বাজার শেড নির্মাণ করছে না। সড়কের বিভিন্ন স্থানের অংশ বিশেষ দখল করে বিকেল থেকে গভীর রাত পযর্ন্ত হাটবাজার বসার কারণে সড়ক ব্যবহারকারি পথচারিদের নানান ধরনের ভোগান্তির পাশাপাশি দুর্গন্ধে নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়,টেকনাফের উনছিপ্রাং থেকে টেকনাফ পৌরসভার জিরো পয়েন্ট পযর্ন্ত দুই লেনের ১৬৯ কোটি টাকার ৩১ কিলোমিটার সড়ক ও ১৩ কালভার্ট এবং ৪৯ কোটি টাকার ব্যয়ের ৫টি সেতু নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়। তবে সড়কের অংশবিশেষ দখল করে হাটবাজার বসলে সেগুলো উচ্ছেদ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পৌরসভা সূত্র জানায়,১৪৩৩ বঙ্গাব্দের জন্য টেকনাফ পৌরসভার হাটবাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে এক কোটি ২১লাখ টাকায়। আব্দুর রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তি বাজারে ইজারা নিয়েছেন।পৌরসভার অধীনে উপরের বাজারে বাজারে নিদিষ্ট শেড থাকলেও টেকনাফ পৌরসভার বিভিন্ন সড়কের অংশবিশেষ দখল ও মোড়ে অবৈধভাবে দখল করে হাটবাজার গড়ে তোলা হয়েছে।
সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা যায়, টেকনাফ-কক্সবাজার আঞ্চলিক সড়কের টেকনাফ বাস ষ্টেশন এলাকার উপর দিয়ে দুই লেনের দৃষ্টিনন্দন সড়ক নিমাণ করেছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তবেই ওই সড়কের অংশবিশেষ দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে হাটবাজার। টেকনাফ পৌরসভার ওপরের বাজার,টেকনাফ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে উত্তর পাশে জুলি বাজার, অলিয়াবাদ সেতু, ইসলামাবাদ, পুরাতন বাস স্টেশন, গ্রিন গার্ডেনের সামনে ও উপজেলা পরিষদ এলাকায় মাছ ও তরিতরকারির হাট বাজার বসছে প্রতিনিয়ত। এর ফলে সড়কগুলো দিয়ে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায় প্রতিদিন যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি ওইসব হাটবাজার এলাকায় পঁচা দুগন্ধে পথচারিদের নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, বাস ষ্টেশন এলাকায় মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের।
নামাজ পড়তে আসা লোকজন জানান, শত কোটি টাকা ব্যয় করে দৃষ্টিনন্দন সড়ক নিমাণ করা হলেও সড়কের অংশবিশেষ দখল করে হাটবাজার বসিয়ে বেচা-কেনা চলছে। এতে করে বাজারের মাছের পঁচা পানি ও পঁচা তরিতরকারি ফেলে রাখায় দুর্গন্ধে আশেপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।পাশাপাশি সড়কটি বেদখল হয়ে পড়ায় অটোরিক্সা ও টমটমের কারণে প্রায় প্রতিদিন র্দীঘ যানজটের ফলে সাধারণ পথচারি মানুষগুলো চলাফেরা করতে নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী ও তরিতরকারির দোকানদার বলেন, পৌরসভা প্রতিবছর হাটবাজার ইজারা দিয়ে আসছেন। ওপরের বাজার ছাড়া তাদের কোনো নির্দিষ্ট হাটবাজার নেই। সন্ধ্যার পর ওপরের বাজারের লোকজন যেতে চাই না। তাই বিকেলের পর থেকে পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূণ পয়েন্টে মাছ ও তরিতরকারি বিক্রয় করা হলেও কেহ কোনো ধরনের বাধা দিচ্ছে না। তবে ইজারাদারের লোকজন ঠিকই উসুল আদায় করছেন।
স্বপরিবারের বেড়াতে আসা পযটক আমির হোসেন বলেন, পযটন এলাকায় সড়ক দখল করে এভাবে মাছ-তরিতরকারী বাজার গড়ে তোলা দু:খজনক। পঁচা-বাসির দুর্গন্ধের কারণে মানুষ রোগাক্রান্ত হতে পারে। এসবের বিরুদ্ধে এখনিই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার পৌরসভার।
পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা সচিব মহিউদ্দিন ফরাজী বলেন,২০০০সালের জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের একাংশকে নিয়ে পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা। প্রায় ৪৫হাজারের বেশি মানুষের বসবাস করছেন। যত্রতত্রে সড়ক দখল করে মাছ-তরিতরকারি বেচা-কেনা না করার জন্য মাইকিং করা হবে। যারা এ নিদেশ অম্যান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টেকনাফ পৌরসভা নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন বলেন, এখানকার মানুষেরা সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে জানে না। সড়কের দুই পাশে ত্রিপল ও ছাতা টাঙ্গিয়ে পিছনে থাকা মার্কেটগুলোকে অন্ধকার করে রাখে। ফুটপাতের জায়গা দখল করে সড়কের উপর এসে যানজট সৃষ্টি করা হচ্ছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে লাখ লাখ টাকা খরচ করে ইট বিছানো হলেও সে জায়গাগুলো পুনরায় দখল করা হচ্ছে। গনবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে এর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টেকনাফ পৌরসভার ইজারাদার আব্দুর রাজ্জাক মেম্বার বলেন, তিনি ভ্যাট, আয়কর ও ১০% জামানতসহ এক কোটি ২১ লাখ টাকায় বাজারটির ইজারা নিয়েছেন। তাই পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে বসা বাজার থেকে তার লোকজন উসুল আদায় করছেন। তবে পৌরসভার বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে বাজার বসার ফলে সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। তবে এসবের সমাধান একমাত্র পৌর কর্তৃপক্ষ দিতে পারে।
পৌরসভা সূত্রে জানায়,'গণ বিজ্ঞপ্তি' এতদ্বারা দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, দোকানের মালামাল দোকানের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে রাখতে হবে। দোকানের বাহিরে ফুটপাত ও চলাচল রাস্তার উপর মালমাল রেখে জনপথ, রাজপথ ও সরকারী জায়গা অন্যায় ভাবে দখল করা চুনীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ৪র্থ তফসিলের ৭ধারার অপরাধ। যারা ফুটপাত ও সরকারী রাস্তা অবৈধ ভাবে দখল পূর্বক ব্যবসা করে যাচ্ছেন তাদেরকে আগামী ৩ (তিন) দিনের মধ্যে নিজ নিজ দোকানপাট ও মালামাল অপসারণ করে সরকারী জায়গা দখলমুক্ত করার জন্য অনুরোধ করা হল। অন্যথায় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে মানুষের চলাফিরা ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য। সড়কের আশেপাশে মাছ ও তরি-তরকারির বাজার বসায় পৌরবাসী ও এখানে ভ্রমণে আসা পর্যটকেরা নানান ধরনের ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। উপরের বাজারে মার্কেট তৈরি করা হচ্ছে । বাজারের নিদিষ্ট শেডের মধ্যে মাছ-তরিতরকারি বিক্রয় করার জন্য ব্যবসায়ীদের নিদেশ দেওয়া হচ্ছে।