প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভূমিহীনদের জন্য পূর্ণবাসন ও বাঁকখালী নদীর দুই পাড়ে বেড়িবাঁধসহ বেশকিছু দাবি তুলে ধরেছেন কক্সবাজার - ৩ ( সদর, রামু, ঈদগাঁও) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল।
শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পিএমখালী ইউনিয়নের মাছুয়াখালী পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আগে বক্তব্যে রাখেন, লুৎফুর রহমান কাজল এমপি।
তিনি ৫ মিনিটের বক্তব্যে, জলবায়ু উদ্বাস্তু মানুষের কথা; ভূমিহীনদের পূর্ণবাসন ও বাঁকখালী নদীর দুই পাড়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ আরও কয়েকটি দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
এমপি বলেন, 'আপনি আমাদের অভিভাবক; আপনার নির্দেশনায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমার কক্সবাজার খুব বেশি অবহেলিত। আপনার কাছে আমার দাবি নেই ; কিন্তু, আবেদন আছে আমাদের একটি বাঁকখালী আছে। ১১টা ইউনিয়ন ঘিরে এই বাঁকখালী নদী। চীনের দুঃখ যদি হোয়াংহো নদী হয়; আমার এলাকার দুঃখ হইলো বাঁকখালী নদী। এই নদীর বাঁকে বাঁকে যদি প্রবল স্রোত আসে তখন খালের দুই পাড়ে কৃষকের স্বপ্নের ক্ষেত- খামারের ফসল নষ্ট হয়; নষ্ট হয় বাড়ি ঘর। পানিতে তলিয়ে যায় কয়েক হাজার একর
জমির ফসল। এই বাঁকখালী আবার আমাদের সম্পদও; কক্সবাজারের শস্য ক্ষেত্র হিসেবেও পরিচিত। এখানে পানিসম্পদ মন্ত্রী আছেন, আপনি দয়া করে নির্দেশ দিয়ে যাবেন ; বাঁকখালীর দুই পাড়ে বেড়িবাঁধ দিয়ে যেন মানুষের ভাঙন থেকে রক্ষা করে৷ আপনি বাজেটও প্রস্তাব করেছেন; ৪০ লক্ষ মানুষকে আপনি ফ্যামিলি কার্ড দিবেন, ৪১ লক্ষ কৃষককে আপনি কৃষি কার্ড দিবেন; আপনার কাছে আমার আবেদন থাকলো, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমার এলাকা মানুষদের আপনি ফ্যামেলি ও কৃষি কার্ড দিবেন।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এমপি কাজল আরও বলেন, 'এই এলাকায় মানুষ সবসময় আপনার পরিবারের ভক্ত ; শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দুইবার এই এলাকায় এসেছিলেন ; তিনি এই খাল নিয়ে গর্ব করতেন ; ওই সময় খাল কাটার চিত্র দেখতে তখন ছুটে আসেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট রবার্ট ম্যাকনামারা, নেপালের রাজা বীরেন্দ্র, ভুটানের রাজা জিগমে সিগমে ওয়াংচুক ও শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী বন্দরনায়। তখন বিদেশি রাষ্ট্রের অনেক প্রতিনিধি সেই খাল খননের দৃশ্য দেখেছিলেন। সেই কাজ সমাপ্ত হলে তিনি পরবর্তীতে আবার এসেছিলেন; তিনি এই জনপদের মানুষদের সাথে খনন কাজ উদযাপন করেছিলেন ; তাঁদের সাথে মিশে, মাটির পাত্রে ভাত খেয়েছিলেন। এখনো সেই স্মৃতি এখানকার মানুষদের নাড়া দেয়।'
তিনি বলেন, 'আমি নিজের জন্য কখনো কিছু চাইনি, আমি সবসময় এই জনপদের মানুষের পাশে থেকে কথা বলেছি। এজন্য তারা বারবার আমাকে এমপি বানিয়ে সংসদে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছেন। এঁরা খুবই অবহেলিত।'
তিনি বক্তব্য প্রদানকালে মাছুয়াখালী সভাস্থলের সামনে ও খালের দু'পাশে থাকা শত শত মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
এমপি বলেন, 'আজকে অনেক কিছু বলার আবেদন আছে, কক্সবাজার জেলা অনেক অবহেলিত ; এর অনেক কিছু আমি সংসদে উপস্থাপন করবো; একারণে এখানে আমি বেশি সময় নষ্ট করতে চাইনা। আমি আমার সমস্যা এবং সম্ভাবনা এবং দাবি দাওয়ার একটি তালিকা আপনার হাতে দেব। এই এলাকার মানুষের তিনভাগের দুই ভাগ ভূমিহীন, এখানে জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবার বেশি, দুই ভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই, একটা পাহাড়ি ঢলে এবং অন্যটি সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস। আমার এলাকার অধিকাংশ মানুষ পাহাড়ে সরকারি খাস জায়গায় বসবাস করে; এঁদের কান্না শোনার কেউ নেই ; এঁরা অসহায়, এঁরা গরিব; এঁরা বৃষ্টি আসলে কাঁদে - বন্যা আসলে ভাসে। এঁদের জন্য নীতিমালা করা দরকার। এরা সবসময় আতঙ্কে থাকে, মায়ানমারের অধিবাসীদের মত; কখন তাদেরকে উচ্ছেদ করবে? এই জন্য নীতিমালা হওয়া প্রয়োজন। যেকোন ভূমিহীনদের উচ্ছেদের আগে তাঁদের পূর্ণবাসন জরুরি। দয়া করে আপনি তাঁদের পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা করে দিবেন। না হয় দীর্ঘস্থায়ী বন্দোবস্ত করে দিবেন। এটাই আপনার কাছে প্রাণের দাবি।'
তিনি প্রধানমন্ত্রী-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, 'বৈরী আবহাওয়ার কারনে এখানকার সৌন্দর্য আপনাকে দেখাতে পারিনি৷ এই খাল যখন খনন হয়ে যাবে, তখন আপনি আপনার পিতার মত আবার আসবেন; তখন আমাদের নিয়ে আপনি মেজবানি খাবার খাবের খাবেন ; মাটির পাত্রে করে ভাত খাবেন। ঠিক আপনার বাবা-র মতো! আপনি দেখেন, ”এই যে সড়কের দু'পাশে অনেকগুলো খেজুর গাছ; এগুলো আপনার পিতা নিজ হাতে লাগিয়েছেন। সেই গাছগুলো এখনো হৃদয় দিয়ে ধারণ করি, পথিকদের ছায়া দিয়ে যাচ্ছে। এখানের মানুষ এই গাছগুলোকে সন্তানের মত করে রেখেছেন। আল্লাহ আপনাকে এনেছেন, দেখেছেন, এই এলাকার মানুষের দুঃখের সাথী হবেন। এটাই প্রত্যাশা।'
এর আগে নিজ হাতে মাটি কেটে পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী।